Tinpahar
No Comments 20 Views

আমরা যখন পর্যটক

অর্কজিৎ মণ্ডল, পরাশর, গৌরব
Ex-Patha Bhavana, Visva-Bharati

This article was primarily published in Resonance, a magazine from Patha-Bhavana. Resonance
was edited by Siddharth Sivakumar along with others who are now part of the Tinpahar-team. The relevance of its subject and the witty manner in which Arkajit Mandal articulates the venture, call for a greater audience. The article has been divided into three parts. In the subsequent issues, the remaining two shall be published.

বসন্তোৎসবে শান্তিনিকেতনে আসা পর্যটকদের ব্যাগে , অথবা শান্তিনিকেতনের আনাচে-কানাচে ক্যামেরা লাগিয়ে এতৎকালীন বেড়ে ওঠা পর্যটকদের সঙ্গে যাবতীয় দুর্নীতি Resonance (school magazine of Pathabhabana)- র মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরার যে মহৎ উদ্দেশ্য আমাদের ছিল , তা কখনও ক্যামেরার অভাবে আবার কখনও পর্যটকের অভাবে ভেস্তে যেতে লাগল । আমরা খুব খোঁজাখুঁজি করেও এমন কোনো পর্যটকদল পেলাম না যাঁরা আমাদের রেকর্ডারখানা নি:স্বার্থভাবে বহন করবে এবং কেউ ঠকাচ্ছে যেনেও নীরব থাকবে , অথচ ভুলেও রেকর্ডারটা থামবেনা । কিছুজনকে তো বোঝানোই গেল না যে নোবেল-চুরির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্কই নেই ! অবশেষে যখন কেবলমাত্র একজন পর্যটক ‘শৈলেন পটুয়া ‘কে জোগাড় করা গেল তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমরাই পর্যটক সাজব । কথামত দিব্যজ্যোতির বাড়িতে সাইকেল রেখে , নতুন প্যান্ট -শার্ট প’রে , কাঁধে লাগেজ আর হাতে ব্রিসলেরির বোতল নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করলাম ।কলাভবনের সামনে যখন এক দোকানদার বলল যে তার রবীন্দ্রনাথের মূর্তির দাম মাত্র ১৫৫ টাকা তখন আমরা বুঝলাম আমাদের মেক-আপটা নেহাত মন্দ হয়নি । পর্যটক সেজে ঠ’কে ঘর ফেরাই যেহেতু আমাদের একমাত্র সংকল্প ছিল তাই আমরা ঠিক করেছিলাম যে গাইড নয় , রিক্সা করেই নিরীহ পর্যটকের মত ঘুরব । যাই হোক শেষে শৈলেন বেঁকে বসায় আমরা ঠিক করি আশ্রম এলাকায় আমরা গাইড নিয়ে ঘুরব , বাকিটা অবশ্য রিক্সাতেই ঘোরা হবে । এর পরের অংশটা আর বলবনা , রেকর্ডার অনুযায়ী টুকে দিচ্ছি ।

গৌরব – এবার একটা গাইড-টাইড পেলেই বেশ পর্যটক পর্যটক ভাব আসবে ।
পরাশর – এই শৈলেন বুঝলে তো ….. তুমিতো পর্যটক তুমি গিয়ে বরং একটা গাইড
{ইতিমধ্যেই আমাদের মেক-আপের দৌলতে এক রিক্সাওয়ালা আমাদের দিকে হন্ হন্ করে এগিয়ে এলো }
রিক্সাওয়ালা – আপনারা যাবেন চলুন ……. বকুলবিথী , ছাতিমতলা , আম্রকুঞ্জ , অমর্ত্য সেনের বাড়ি , সব দেখিয়ে দেব ….. আরে মুগল তুর রিসকাটো লাগা , এনারা …..
অর্কজিৎ – নানা আমরা যাব না
গৌরব – {ফিসফিস করে } কি সুন্দর আপনি আপনি করছে দেখ
পরাশর – তোরা কি করছিস …… এদিকে আয় , গাইড জোগাড় হয়ে গেছে

কিছুক্ষণ পর …..

গাইড – কবি তাঁর বাবা দেবেন্দ্রনাথ , তিনি একটা বাড়ি বানিয়েছেন তার নাম শান্তিনিকেতন , অর্থাৎ দেবেন্দ্রনাথ টেগোর when come here got peace and bought 20 bighas land with only one rupees from the landlord of Raipur , Bhuban Mohan Sinha ; he was a friend of Rabindranath’s father ……. understand ? সব clear তো আমি বাংলা , ইংরাজিতে যা বললাম ! আমার ইংরেজি বেশী ভালো লাগবে বুঝলে ! বাংলায় অনেক গ্রামাটিক্যাল ভুল হয় বুঝতেই পারছ , তোমরা স্টুডেন্ট …… অসুবিধা হবে না , আমি ইংরাজিতে বলি হ্যা …….
ওই গাছটা মহুয়া , মহুয়া বাড়ি , বর্ষাকালে এখানে ক্লাস হয় in the time of rain …. one , ten বা three , four এর ক্লাস হয় , বাড়িটা এখন নেই , এটা অন্য বাড়ি ,
এই যে ক্লাস রুমটা আছে এটা কবির তৈরী করা প্রথম ক্লাসরুম যেখানে উনি পাঁচজন ছাত্র নিয়ে স্কুল শুরু করেন , কবির পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর এদের মধ্যে একজন । তখন নাম ছিল ব্রহ্মচর্যাশ্রম এখন পাঠভবন , ১০০০ ছেলে-মেয়ে এখানে পড়ে । আজকে বুধবার তাই আমরা কাছ থেকে দেখতে পারছি ।
এটা বকুলবিথী এখানে বকুলগাছ লাগানো আছে বলে এই প্যাসেজের নাম বকুলবিথী । কি সব মনে আছে ? তো মহুয়াবাড়ি , বকুলবিথী …. মহুয়া একটা কাব্যের নাম , গাছের নাম , বাড়ির নাম , এই যে দেবদারু গাছ এগুলো কবির বাবার
লাগানো ………………

………… শান্তিনিকেতন বাড়ি তৈরী হয় ১৮৬৪ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর আলিপুর কোর্ট থেকে দলিল করে বাড়িটা বানিয়ে ছিলেন ,তারপর তিনি এখানে কলকাতা থেকে আসতেন আর লর্ড সিনহা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করতেন ।গীতাঞ্জলির কবিতাগুলো কবি এখানেই লেখেন ……. ১ সাল থেকে ৪ সাল । ২ সালে ওনার স্ত্রী মারা যান কলকাতায় ।এটাকে পরে গেস্টহাউস করা হয় , তারপর উড়িয়া ডিপার্টমেন্ট , এখন এমনি ফাঁকা পড়ে আছে , বাড়িটা কয়েকটা ধর্মের সমন্ব্য় তৈরী , ত্রিশূল হিন্দু , ওই গম্বুজ হচ্ছে মুসলিম , পিলার হচ্ছে খ্রীষ্টান ওই খাঁজগুলো হচ্ছে বৌদ্ধ আর ওই বারান্দা হচ্ছে জৈন , সর্ব-ধর্ম-সমন্ব্য় গঠিত …… যার নাম শান্তিনিকেতন ।
………. এই স্ট্যাচুর নাম হল অনির্বান শিখা , definition of this anirban flame is mother and child , সূর্যের ছায়া পড়লে মনে হবে মা ও তার শিশু আবার যখন দেওয়ালে ছায়া পড়ে তখন মনে হয় ল্যাম্পস্ট্যান্ড , আবার মনে হবে মিউসিক্যাল ওয়েভ কমপোনেন্ট ….. চল্লিশ সালে রামকিঙ্কর বেজ এই বিমূর্ত মূর্তিটি বানিয়ে গেছেন , এ বোঝা মুসকিল । আর এই আমলকি বন , এখান হতেই কবি লেখেন শরৎ কবিতা one part of Gitanjali…1137 Painting, 116 drama, 13 novel, 2000 more than song …….. কিছুদিন আগেই কবির একটা লেখা প্রকাশিত হল , উদয়নে একটা সিন্দুক আছে , তার মধ্যে কি আছে তা ভগবান জানে , বহুত পান্ডুলিপি আছে …..
………এই হল কাঁচ মন্দির , পৃথিবীর তিনটি গ্লাস হাউসের মধ্যে এটি অন্যতম । লন্ডনের গ্লাসহাউসের আদলে এটা বানানো হয় , ১৮৯১ তে ,দ্বিজেন ঠাকুর বানিয়ে ছিলেন, একজন ইঞ্জিনিয়ার এসেছিলেন লন্ডন থেকে । ব্রহ্মমন্দির …… বুধবার ছাত্ররা এখানে প্রেয়ার করে । সবচেয়ে মূল্যবান এখানকার হল নোবেল প্রাইজ আর এই ব্রহ্মমন্দির ।মন্দিরের ফোটো নিতে দেওয়া হয়না ……. {সামনে একজন ফটো তুলছিল , তাকে দেখে ….. } তুলছে চুরি করতে কি আছে , ভারতবর্ষে ৯০% চোর ……….. ওই যে একটা বটগাছ …. আছে ওই বটগাছটার বয়স হবে প্রায় ২০০ বছর, এখানে কবি ধ্যান করতেন , বাবাও ধ্যান করতেন ,কবি বারো বছর বয়সে মাথা নেড়া করে এসেছিলেন এখানে ,এই হল তালবন ,ওটা তিনপাহাড় , কবি নুড়িপাথর দিয়ে তিনটে পাহাড় বানিয়েছিলেন , তাই নাম তিন পাহাড় ওখানে তালপুকুর ছিল একটা । ওখানে তালগাছকে কেন্দ্র ক’রে একটা বাড়ি আছে , যার নাম তালধ্বজ , তেজেন সেনের বানানো ।
এই যে আম গাছ গুলো বর্ধমান থেকে আনা , এগুলো বাবা এনেছিলেন , তারপর ছেলে look after করলেন তারপর নাম দিলেন ফাল্গুন …. মানে আম্রকুঞ্জ , গাছ গুলোর মাথা গুলো কেটে দেওয়া হল তারপর কাটিং পদ্ধতিতে বেড়ে উঠল ।জে সি বসু বললেন তুমি কিছু গাছ লাগাও ছেলেরা ছায়া পাবে , অক্সিজেন পাবে, কার্বন-ডাই-অক্সাইড দূর হবে , আর কি হবে , না ক্লাস গুলো হবে ….. বিশ্বভারতীর অনেক অনুষ্টান হয়েছে , বসন্তৎসব , এখন কেবল সমাবর্তন হয় ।ওই লাল বেদিতে যার নাম নেহেরু মঞ্চ , ওখানে যে মেয়ে তা বসে আছে …ওটা দেখ c আর m লেখা আছে .. ওটা কার্ল …… ইয়ে ….
শৈলেন – মার্কস
গাইড – মাইকেল ,কার্ল মাইকেল ইংরেজী পড়াত ।ওটা একটা হোস্টেল যার নাম মৃনালিনী গার্ল হোস্টেল যেখানে ইন্দিরা গান্ধী থাকতেন ।এই রাস্তার নাম শালবিথী , কবি দুবেলা পায়চারি করতেন । জনগনমন , আমাদের শান্তিনিকেতন ,গ্রাম ছাড়া রাঙা মাটির পথ , এখানে লেখেন ।সন্তোষ ভবন বাচ্চা মেয়েদের হোস্টেল ।বিথীকা গৃহ এখানে ছিল , আর নেই ।একটা কথা মনে রাখ কবি যে গাছ লাগিয়েছেন তা হৃষ্টপুষ্ট , আর যে মানুষটা মাথায় হাত দিয়েছেন সে পৃথিবীতে জ্ঞানীগুণি , যেমন – সত্যজিত রায় , কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় , শান্তিদেব ঘোষ , অমর্ত্য সেন , মহাত্মা গান্ধি , দেশনাথ , বৈরেন শীল , সুনীল ভট্টাচার্য , নেপাল রায় , জগদীশ বসু ইত্যাদি এর বেশী আর বলা যাবে না কারণ এর বেশী আর আমার মাথায় আসছেনা …….. ওই যে খরের বাড়িটা আছে বাড়িটার নাম মুকুট ভবন , তুমি বলবে মুকুট কেন ,কারণ এখানে মুকুট নাটক হত বলে । এটা পুরনো ঘন্টাতলা , শিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরী ।কবির জন্মদিন আমরা কবে পালন করি ?
গৌরব , অর্কজিৎ ও পরাশর – এখানে তো পয়লা বৈশাখ ।
গাইড – না ২৫ শে বৈশাখ , আমারা এখানে পয়লা বৈশাখ পালন করি কারণ lack of temperature , lack of water , hot temperature……… ওই দেখ ওখানে একটা বাড়ি আছে , …….{একদল ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে } ভালো আছো ! ওটা কি , ও: টুপি , বা: ভালো , {ইতিমধ্যে পরিচিত ঝালমুড়িওয়ালাকে দেখে আমাদের lack of confidence হয়ে যাবার জোগার হল }…….{আমাদের দিকে তাকিয়ে আবার }…… এটা ইষ্ট ও ওয়েস্টার্ন কালচার , that is indicate বিশ্বভারতী, বুঝলে ।
……. ওটা {সিংহসদনকে দেখিয়ে } ওটা ঘড়ি ঘর , ওখানে টাওযার আছে , যেখানে মিটিং হল , যে ঘরটায় পরীক্ষা হয় , যে বাড়িটা ২৬ সালে টাকা দিলেন লর্ড এস পি সিনহা ,ওই জল ট্যাজ্কির বাড়িটার নাম বিদ্যাভবন , B.A , M.A , এখানে পড়ানো হয় , এটা লাইব্রেরী যার নাম শমিন্দ্র শিশু পাঠাগার , এটা প্রাক্তন নাট্যমঞ্চ , এই মঞ্চের নাম গৌর মঞ্চ ,এই প্রাঙ্গণের নাম গৌর প্রাঙ্গণ , গৌর গোপাল ঘোষের নামে এই মঞ্চের নাম , তো এই গৌরপ্রাঙ্গণ এখানকার ঐতিহাসিক একটা জায়গা , এখানে ফ্ল্যাগ হোস্টিং গুলো হয় , ফাংসান গুলো হয় , এখানে আলোচনা গুলো হয় । ওটা বলেন্দ্রভবন ওটা লাইব্রেরী ছিল , এখন আর নয় ।
………..{হঠাৎ} তোমরা কোথা থেকে আসছ ?
পরাশর – সিউড়ি …… ইয়ে ওটাকে কি বলে ……
গৌরব – এই বাস স্ট্যান্ডের পাশেই …..
শৈলেন – না না , আমরা সবাই সিউড়ি ডাঙাল পাড়া থেকে আসছি , আমরা সবাই চন্দ্রগতি স্কুল থেকে আসছি ,……..
পরাশর – হ্যা হ্যা আমরা …… ওই ওইখান থেকেই আসছি ……..
গাইড – চন্দ্রকোণা না চন্দ্রগতি ?
অর্কজিৎ – আপনি চেনেন নাকি ?
গাইড – তা আর চিনব না ! যেতাম তো আমি ওখানে …… জেলা স্কুলে যেতাম ,ওখানে কোথায় থাকো বলত
পরাশর – (কথা ঘুরিয়ে ) নাচটা কাল কোথায় হয়েছে ?
অর্কজিৎ ও গৌরব – হ্যা , হ্যা ওটা কত সালে প্রতিষ্টিত হয়েছে যেন ?
গাইড – ৩৭ সালে ,কি যেন বলছিলাম …….
পরাশর – নাচটা কোথায় হয় বলছিলেন ,
গাইড – নাচ ? ওহ হ্যা , জেলা স্কুল , বিদ্যাসাগর আর কি স্কুল আছে আমাদের সিউড়িতে ?
শৈলেন – বেণীমাধব আছে , আমি যে স্কুলে পড়ি চন্দ্রগতি আমরা সবাই – আমরাও ওইটাতেই পড়ি
গাইড – আচ্ছা ওটা কোথায় বলত , বুঝতে পারছিনা (গৌরবের দিকে তাকিয়ে )
গৌরব – (শৈলেন -এর দিকে তাকিয়ে ) ও …… ও …….. ওটা …… ওটাতো ওখানেই …… ওখানেই আছে
শৈলেন – টিনবাজার পেরি ……
অর্কজিৎ – এটা কি ?

About the author:
Has 212 Articles

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Top