Tinpahar
No Comments 21 Views

উভয়মুখী সমাধান সুত্র : বাসের ছাদে চাপা – এ আইনি সিলমোহর লাগানো নিয়ে চাপান উতর

বর্তমানে নানা বিধ সমস্যায় জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গ বাসীরদের কাছে অন্যতম জলন্ত সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে পরিবহন ও বেকার সমস্যা। রাজ্যে পালা-বদলের পর নবগঠিত সরকার রাজ্যবাসীর সমস্ত সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট হওয়ার যে মনোভাব নিয়েছিল তা এই দুটি বিষয়ে সেই ভাবে প্রভাব ফেলতে পারেনি।ফলত ভেঙে পরেছে পরিবহন ব্যবস্থা ,বেড়েছে বেকারের সংখ্যা।

রাজ্যের মানুষের একটি বড় অংশের দাবি রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মূলে রয়েছে ভাড়া না বাড়ানোর মত জনমোহিনী সিদ্ধান্ত। বেকার সমস্যার জন্যেও রাজ্য সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে অক্ষমতাকেই দায়ী করেছেন এই অংশটি। সরকার পক্ষ অবশ্য এই সব মানতে (চিরকালই ) নারাজ।
কোলকাতা সহ গোটা রাজ্যের সিংহভাগ মানুষই কোনো না কোনো ভাবে গণ-পরিবহন ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল, ফলে এই ব্যবস্থা পঙ্গু হয়ে পড়লে তার  প্রভাব সরাররি সাধারণ মানুষের উপরই পড়ে।
পশ্চিমবঙ্গের গণ-পরিবহন ব্যবস্থার বেশির ভাগটাই নিয়ন্ত্রণ  করে বেসরকারী বাস -অটো -ট্যাক্সি মালিক সংগঠন গুলি।
সরকারি গণ-পরিবহন ব্যবস্থা অনান্য রাজ্যে উন্নত হলেও এ রাজ্যে তেমনটা নয়। যার ফল ভুগতে হয় রাজ্যবাসীকে। তবে ভাড়া নিয়ে শেষ কথা বলার ক্ষমতা রাজ্য সরকারের হাতেই ন্যস্ত। আর রাজ্য সরকার ভাড়া বাড়াতে নারাজ। ভাড়া বাড়লে জনতার উপর চাপ পড়বে এই যুক্তিতে রাজ্য সরকার ভাড়া বাড়াতে চাইছে না। যদিও পরিবহন ব্যবসার সাথে যুক্ত সকলেই মনে করছেন বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।তাদের দাবি যে হারে জ্বালানী ও যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি হয়েছে তাতে আগের ভারতে বাস চালানো আর সম্ভাব নয়। বাস মালিক সংগঠন এর এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য “জ্বালানীর  দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক ভাবে,বেড়েছে যন্ত্রাংশ ও অনান্য আনুষঙ্গিক খরচ, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পুলিশ এর দাপট- সব মিলিয়ে দম বন্ধ করা পরিস্থিতি।”
যাত্রী সাধারণের একাংশ এই যুক্তির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন।ফলে ভাড়া বাড়ানোই একমাত্র পথ। কিন্তু রাজ্যে এখন এক জনের মতই পথ! কাজেই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নিত্যদিন পথ-চলতি মানুষের অভিজ্ঞতা তিক্ত থেকে তিক্ততর হয়ে চলেছে।
ওপর দিকে বেকার সমস্যাও রাজ্যে মূল্যবৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়েই  বেড়ে চলেছে।রাজ্যে সেই ভাবে নতুন করে কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরী হয়নি। যার প্রত্যক্ষ ফল রাজ্যবাসীকেই ভুগতে হচ্ছে।বেকার সমস্যা পরিবহন সমস্যার তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বেকার সমস্যা সামাজিক সুস্থিতির সাথে সরাসরি সম্পর্ক যুক্ত।রাজ্যে সাম্প্রতিক কালে যে হারে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলেছে তার জন্যে বেকার সমস্যা প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী বলে মনে করেন বিশিষ্ঠ মনস্তত্ববিদ থেকে শুরু করে পুলিশ এর বড়কর্তা অনেকেই।
সাম্প্রতিক কালে  রাজ্য সরকার এই দুই সমস্যা সমাধানে সামান্য কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করেছিল। তা হলো পরিবহন সমস্যা  মোকাবিলায়  এক বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরী ও বেকার সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সরকারী কর্মসূচিতে মন্ত্রীদের ভাষণে নিয়ম করে চাকরীর প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা। উভয়ের কোনটিই সমস্যা সমাধানে সফল হয়নি।
তবে পরিবহন সমস্যার সমাধানে গঠিত কমিটি তাদের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তবে সেই রিপোর্টতিতে শুধুমাত্র কোলকাতার পরিবহন সমস্যা সমাধানে একটি মাত্র উপায় এর উল্লেখ আছে।
এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে কমিটির প্রধান জানান যে যেহেতু কমিটির প্রত্যেকেই কোলকাতার মানুষ এবং কেউই পরিবহন শিল্পের সাথে যুক্ত নন , ফলে তাদের পক্ষে এর থেকে বেশি কিছু করা সম্ভাব ছিল না।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই, যে কমিটি তে স্থান পাওয়া কেউই পরিবহন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বা নির্ভরশীল নন। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বাস মালিক সংগঠনের এক নেতা সক্ষোভ মন্তব্য করেন যে “কমিটিতে গায়ক আছেন ,নায়ক আছেন এমনকি বিশিষ্ট চিত্রকর ও স্থান পেয়েছেন ,অথচ হতভাগ্য বাস মালিকদের কিম্বা নিদেন পক্ষে নিত্যদিন বসে-ট্রামে চড়ে অফিস যাওয়া কোনো সাধারণ মানুষের স্থান হয়নি কমিটিতে।”
এই বিষয় এ রাজ্যের বিরোধী দল গুলিও সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের এক মুখপাত্র জানান রাজ্য সরকার পরিবহন সমস্যা সমাধানের পথ খুজতে যে কমিটি তৈরী করেছে তাঁরা নির্সন্দেহে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি , কিন্তু কেউই গণ-পরিবহন ব্যবস্থার উপর কোনো ভাবেই নির্ভরশীল নন।
অবশ্য এ জিনিস নতুন নয়, বর্তমানে রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণ যাঁর হাতে তিনি কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রী থাকাকালীন বিভিন্ন কমিটি তৈরির ক্ষেত্রে এমন অঝশ্র নিদর্শন রেখেছেন।
পূর্বেও বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন এমন বেক্তিদের দ্বারা কমিটি গড়ে যেমন ফল হয়েছে এক্ষেত্রেও তার কোনরূপ ব্যতিক্রম হয়নি। এক্ষেত্রেও কমিটি কোনো কার্যকরী সমাধান সুত্র দিতে পারেনি।
কিন্তু কি ছিল এই কমিটির সুপারিশ?কমিটিতে স্থান পাওয়া এক কবির সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি বিস্তারিত জানা গেল। তিনি জানিয়েছেন যে ” আমাদের উপর রাজ্যের পরিবহন সমস্যা সমাধানের পথ অন্বেষণ এর ভার ছিল। আমরা তাই সরকারি ব্যবস্থায় দোল বেধে এবং একক ভাবে রাজ্যের নানা স্থান ঘুরে দেখেছি। এই সময় আমরা লক্ষ্য করি যে কোলকাতার বাইরে রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলায় বাসের ছাদে লোক চাপার সুপ্রসিদ্ধ রীতি প্রচলিত আছে। শুধু মানুষই নয়,বহু ক্ষেত্রে বাসের ছাদে গৃহপালিত পশুও তোলা  হয়। এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা সরকারের কাছে এই সুপারিশ করি যে অনান্য জেলার মতই যদি শহর কোলকাতাতেও বাসের ছাদে লোক ওঠা বিধিসন্মত করা যায় তবে একই বাসে বহু মানুষ অতি সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন।” তিনি আরো জানান যে কমিটি তে থাকা এক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অভিমত ব্যক্ত করেন যে যে সকল মানুষ বাধ্য হয়ে বা স্বেচ্ছায় বাসের ছাদে উঠবেন তাদের ক্ষেত্রে সরকার যেন বাসের ভিতরে বসা বা অতি কষ্টে দরিয়া থাকা যাত্রীদের অপেক্ষা কম ভাড়া নেওয়ার বব্যবস্থা রাখে।
কিন্তু মূলত দুটি কারণে কমিটির  এই অবৈজ্ঞানিক সুপারিশ রাজ্য সরকাররের পক্ষে মানা সম্ভব হয়নি।
প্রথমত কোলকাতা ট্রাফিক পুলিশ এর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বিশেষ আপত্তি জানানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোলকাতা ট্রাফিক পুলিশ এর  এক কর্তার মতে ” এই সুপারিশ সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক এবং অবাস্তব ,বাসের ছাদে লোক চড়া বে-আইনিও।” তিনি আরো বলেন যে, যে কোনো মুহুর্তে বাসের ছাঁদ থেকে যাত্রীরা পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা যেরকম থাকছে সেই রকমই বিদ্যুৎ এর তারে জড়িয়ে ও বিভিন্ন বহুতলের কার্নিশ এ ধাক্কা লাগার মত মারাত্বক কিছু ঘটার সম্ভাবনা প্রবল।
এছাড়াও কোলকাতা শহরের  ছাদে লোক ওঠার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় অন্তরায় হলো শহর অঞ্চলে চলাচল করা বাসের গঠন। রাজ্যের অনান্য জেলায় চলা বাসের সাথে কোলকাতা শহরে চলা বাসের গঠনে রয়েছে বিস্তর ফারাক। জেলার বাস গুলির ছাদ দুপাশে ঢালু হয় না উপরন্ত ছাদে মাল-পত্র বেধে নিয়ে যাওয়ার জন্যে থাকে লোহার হাতল। কিন্তু কোলকাতা অঞ্চলের বাসের চাদের দুইধার ঢালু হয় এবং তাতে কোনো হাতলও থাকে না। এছাড়া কোলকাতার বাসের ছাদ জেলার বাসের ছাদের মত মজবুতও নয়। ফলে কলকাতার বাসের ছাদে লোক ওঠা কার্যত সম্ভব নয়।
এই প্রসঙ্গে জনতার মতমত সংগ্রহ করতে যাওয়া আমাদের প্রতিনিধি জানাচ্ছেন যে শহরবাসীর মধ্যে এই হেন সুপারিশ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বেহাল পরিবহন ব্যাবস্থার ফলে নিত্যদিন ভোগান্তির স্বীকার এক মধ্য বয়স্ক সরকারি কর্মচারী সহাস্যে বলেন “যে ভাবে এক জনের খেয়াল-খুশি মত সরকার চলছে তাতে এহেন সুপারিশ কার্যকর না হওয়াটাই বিস্ময়কর।”
অন্যদিকে এই সুপারিশ কার্যকর না হাওয়ায় অনেক স্কুল-কলেজ এর ছাত্র-ছাত্রী ভেঙে পড়েছেন।তাদের দাবি বাসের ছাদে ওঠার রোমাঞ্চ জেলার মানুষের মত তারাও উপভোগ করতে চান। শহরের নানা স্থানে বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী এর প্রতিবাদে বাসের ছাদে উঠে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টাও করেন।
তবে কমিটির সদস্যরা তাদের সুপারিশ নিয়ে এখনও যথেষ্ট আশাবাদী। তাদের দাবি এই যে কলকাতার বাসের সাথে জেলার বাসের যে গঠনগত পার্থক্য রয়েছে তা অতি সহজেই পরিবর্তন করা সম্ভব ,এবং বৈদ্যুতিক তার বাচিয়েই জেলার মানুষ বাসের চাদের চেপে নিত্যদিন সফল ভাবে যাতায়াত করে থাকেন। ফলে কলকাতার মানুষের পক্ষে একাজ কঠিন হবে না বলেই তাদের ধারণা,কেউ কেউ আবার মনে করছেন যে এই সুপারিশ কার্যকর না করে সরকার আখেরে জীবন-যুদ্ধে (সফর-যুদ্ধে) কলকাতার মানুষকে অনেকটাই পিছিয়ে দিচ্ছে।
পরিবহন সমস্যা সমাধানে তৈরী কমিটির সুপারিশ কার্যকর হয়নি – বেকার সমস্যা সমাধানে নেতা-মন্ত্রীদের আশ্বাস এ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। ফলে সমস্যা দুটি রয়েই গেছে।
কিন্তু রাজ্য সরকার চুপ করে বসে থাকর পাত্র নয়। সাময়িক বার্ত্তা কাটিয়া উঠে তারা নতুন উদ্দ্যমে এই নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে-জানিয়েছেন রাজ্য পরিবহন দপ্তর এর  এক অধিকর্তা।
আর এই চিন্তা-ভাবনার ফল ও মিলেছে।
রাজ্য পরিবহন দপ্তর সুত্রে জানা গিয়েছে যে পরিবহন ও বেকার সমস্যা এই দুই সমস্যা সমাধানের এক অভিনব পথ বাতলেছেন স্বয়ং তিনি।
হ্যা পরিবহন ও বেকার সমস্যাকে একই অস্ত্রে পরাস্ত করার এক আশ্চর্য উপায় এর সন্ধান পাওয়া গেছে। পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে যে রাজ্যে অতি শীঘ্রই এক বিশেষ ধরনের ” টানা-ঠেলা ” গাড়ি আসতে চলেছে।যার ফলে পরিবহন ও বেকার উভয় সমস্যারই সমাধান হবে।
কিরকম হবে এই বিশেষ ধরনের গাড়ি? সূত্রের খবর খুব সাধারণ দেখতে হবে এই গাড়ি এবং বানানোও  হবে অতি সোজা ও সস্তা। শক্ত কাঠের ততটা বা লোহার পাতের তলায় চাকা লাগিয়া তৈরী হবে এই রকম গাড়ি। এই গাড়ির সামনের দিকে লাগানো থাকবে টেনে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে উপযোগী শক্ত দড়ি ও পিছনের দিকে লাগানো থাকবে ঠেলার পক্ষ্যে উপযোগী লোহার হাতল।অন্য দুই পাশ দিয়ে লোক উঠবে এই গাড়িতে।এই গাড়ি দেখতে অনেকটা রেল স্টেশনে দেখতে পাওয়া মাল বয়ে নিয়ে যাওয়া ট্রলির মত হবে।
পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে যে,প্রথমে পরীক্ষা মূলক ভাবে এই ব্যবস্থা শুধু কলকাতাতেই শুরু করা হবে। সফলতা লাভ করলে তা সমগ্র রাজ্যে প্রসারিত করা হবে। আপাতত কলকাতাতে সল্প দুরত্বে এই গাড়ি চলবে।১ থেকে সর্বোচ্চ ৪ কিমি দুরত্বে কলকাতার বিভিন্ন ব্যস্ত রুটে অতি শীঘ্রই এই গাড়ির দেখা পাওয়া যাবে। এই গাড়ি সামনে ঠিকে টেনে ও পিছন থেকে ঠেলে এগিয়া নিয়ে যাওয়া হবে। কোনো মটর বা ইঞ্জিন না থাকায় এই গাড়ির নিজে থেকে চলার কোনো ব্যবস্থা থাকছে না।টানা ও ঠেলার জন্যে বিপুল সংখ্যায় কর্মী নিয়োগ এর প্রয়োজন হবে। আর এতেই মিটবে বেকার সমস্যা।জানা গিয়েছে যে এক একটি গাড়ি টানার জন্যে ৪ জন ও ঠেলার জন্যে ৪ জনকে নিয়োগ করা হবে। তবে এদের চাকরী স্থায়ী হবে কিনা এবং স্থায়ী বা অস্থায়ী যায় হোক না কেন এদের মাইনে,অনান্য  সুবিধা বা সরকারী চাকরীর ক্ষেত্রে যে নানা বিধ শর্ত থাকে তা কি হবে সেই বিষয়ে বহু চেষ্টা করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।এমনকি এই কাজের জন্যে যোগ্যতার মাপ কাঠিও এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে যে এই কাজের জন্যে কেবল মাত্র সাস্থ্যবান যুবকদেরই নিয়োগ করা হবে।  এই গাড়ির যাত্রীদের থেকে খুব অল্প ভাড়া নেওয়া হবে বলেও সরকারর তরফে আশ্বাস মিলেছে।তবে ভাড়ার তালিকা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত না হাওয়াই এই নিয়ে পরিবহন দপ্তর এর কেউ কোনো মন্তব্য করতে চাননি।তবে যে সকল রুটে এই গাড়ি চলবে তার খসড়া তালিকা পাওয়া গেছে।তালিকায় থাকা কয়েকটি রুট  হলো গড়িয়াহাট থেকে রাসবিহারী ,গড়িয়াহাট থেকে ঢাকুরিয়া ,গোলপার্ক  থেকে রাসবিহারী,গড়িয়াহাট -পার্ক সার্কাস ,রাসবিহারী -হাজরা শিয়ালদা -কলেজ স্ট্রিট ইত্যাদি।
পরিবহন দপ্তরের এক অধিকর্তা জানান যে সকল রুটে অটোর দৌরাত্ব অত্যাধিক রকমের এবং যে সকল রুটে সল্প দুরত্বে যাতায়াত করতে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দুরপাল্লার বাসে চাপতে হয় এবং তার ফলে ঐ সকল বাসে অহেতুক ভীড় হয়-সেই সকল রুটেই বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
রাজ্য সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের মত এই অভিনব পদক্ষেপটিও বিতর্কের উর্ধে নয়। বিভিন্ন মানবধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে এই ব্যবস্থা অমানবিক এবং মধ্যযুগীয়।
যেহেতু এই কাজে মহিলাদের নিয়োগের সম্ভাবনা কম বা প্রায় নেই ফলে বেশ কিছু মহিলা সংগঠন এই পদক্ষেপকে লিঙ্গ-বৈশম্য মূলক আখ্যা দিয়েছে।এর প্রতিবাদে সংগঠন গুলির পক্ষ থেকে এই গাড়ির কৃত্রিম মডেল পথ চলতি  মহিলাদের দিয়ে টানানো এবং ঠেলানোর  পর তা পুড়িয়েও দেওয়া হয়। অন্য দিকে বাস মালিক সংগঠন গুলি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। ব্যবসায় বড় রকমের ক্ষতির আশঙ্কায় অটো মালিক সংগঠন গুলি এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কার্যকরী হলে অনির্দিষ্ট কালের জন্যে বনধ এর হুমকি দিয়েছে।
বিরোধী দল গুলি আবর এই কাজে নিয়োগ এর ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই দূর্নীতি ও সজন পোষণ এর অভিযোগ তুলেছে।
রাজ্যের এক বুদ্ধিজীবির সকৌতুক মন্তব্য এই যে “এই গাড়ি প্রকৃত পক্ষে রাজ্য সরকারেরই প্রতিচ্ছবি ,নিজে থেকে এগিয়ে চলার ক্ষমতাহীন ,টেনে ও ঠেলে কোনো মতে চলিয়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
সরকার পক্ষের নেতারা অবশ্য এই সকল কথায় কর্ণপাত করতে নারাজ। তাদের মতে এই গাড়ি এক দিকে যেমন পরিবহন ব্যবস্থার হাল ধরবে অন্যদিকে বেকার সমস্যারও কিছুটা হলেও সুরাহা হবে। তাদের মতে এই পদক্ষেপ সময়উপযোগী ও কার্যকরী।
তর্ক-বিতর্ক-মন্তব্য- আশ্বাস-প্রতিশ্রুতির মতো  শব্দ থাকবেই কিন্তু উভয় দিক থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এবং পরিবহন ও বেকার সমস্যার মতো জলন্ত সমস্যার উভয়েরই সমাধানকারী রাজ্য সরকারের এই অভিনব উদ্ভাবন কার্যক্ষেত্রে কতটা কার্যকরী হবে তা এখন সময় ও এই বিশেষ গাড়িতে সওয়ার হওয়া যাত্রীগণই বলবেন। 
Tagged with: ,
About the author:
Has 212 Articles

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RELATED ARTICLES

Back to Top