Tinpahar
No Comments 11 Views

কাকতাড়ুয়া

Sayantan Acharya

কাকতাড়ুয়া চোখে চশমা। ঠিক পুপুর গত মাসে নেওয়া নতুন চশমাটার মতন।কে যে এঁকে দিয়েছে! কাকতাড়ুয়ার নাম হাসিখুশি। কে দিয়েছে এই নামটা? পুপু, আলোপুর গ্রামের ক্লাস সিক্সের ছাত্র।

ইস্কুল ফিরবার পথে রোজ কিছুক্ষণ হাসিখুশির কাছে গল্প শোনে পুপু। সে কত গল্প! তুতু ফিঙের এক্কা দোক্কা খেলার গল্প, ওই লাইনের তারে,আকাশে পরীদের মেঘ নিয়ে আলপনা আঁকার গল্প ,বাতাসে শিমুল গাছের ডাইনি বুড়ির সাদা সাদা চুল উড়ে যাবার গল্প, জমির রং বদলের গল্প ,নীল আকাশের কতশত কিচির মিচির হলুদ পাখির গল্প, তারা আসে, মাঠে খেলা করে, গান গায়, ঝগড়া করে, নতুন নতুন দেশের গল্প করে হাসিখুশির সঙ্গে, আবার তারা আকাশেই ফিরে যায় । একঝাক রঙিন প্রজাপতির গল্প …..
সূর্য ওঠে, ডুবে যায় পশ্চিমের ওই অর্জুন গাছটার পাতাগুলোর ফাঁক দিয়ে। তারপর রাত আসে, তখন তারা ফোটে। এই সবকিছুই রোজ হাসিখুশি দেখে, চুপ করে দাড়িয়ে দাড়িয়ে, গল্প শোনে, ঝিরঝিরে বৃষ্টি আর লালফড়িং, লালকমলের গল্প। বিকেলের নরম আলো লেগে থাকে ওদের দুজনের হাসিখুশি চোখে মুখে।
হাসিখুশির গালে ছোট্ট একটা তিল। পুপুই এঁকেছে।নিজের মত দেখতে চায় ও হাসিখুশিকে।কিম্বা ওর সঙ্গে মেলাতে চায় নিজেকে। বুঝতে চায় ভাগ্যকাকুর বলা সেই কথাটা –
” বিরাট এক রং-বাক্সর মত এই পৃথিবী। ”

শেষ বার ভেলোর থেকে ফিরল পুপু তিনমাস পরে। আর যেতে হবে না।
বাবার হাত ধরে বিকেলে একবার মাঠে আসেই পুপু। সারাদিন বাড়িতে যে বড্ড গুমোট লাগে! সেই একই দেওয়াল, জানলার গ্রিল, বিছানা, লাঠি …… কেমন একঘেয়ে ,একই রকম। আগের থেকে সবই পাল্টে গেছে।
শুধু পাল্টায়নি হাসিখুশির বলা গল্পগুলো।
পড়ন্ত বিকেলে হলুদপাখিটা, ওর ছোট্ট ছায়াটা পুপুর ওপর ফেলে উড়ে যায় ওর বাসার দিকে।পুপু টেরও পায় না।তার অজান্তেই কখন পশ্চিমের লাল রংটা হারিয়ে যায় অর্জুন পাতাগুলোর ফাঁকে। সারা আকাশ ডুবে যায় একটাই রঙে। অন্ধকার।পুপু টের পায় অন্ধকারেরও রং আছে। সেই রং হয়ত উত্তরণের রং। অন্ধকারে বাবার আঙ্গুল ধরে বাড়ি ফেরে পুপু।

কাকতাড়ুয়ার মুখে চোখ দুটো আর নেই, কি করে যেন মুছে গেছে |

About the author:
Has 212 Articles

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Top