Tinpahar
No Comments 44 Views

দুই দাদু

আজকে আমার দুই দাদু কে মনে পড়ছে। ঠাকুরদা পাগলের মতন সাইকেল চালাতেন।আমাকে সাইকেল কিনে দিয়ে শেখাতে চেয়েছিলেন।
মা বাবা সাহস পায় নি। আমাদের পাড়াটা  শান্ত ছিল বটে; কিন্তু কখন যে গাড়ি আসে। বাবা মা অনেক কিছুতেই ভয় পেত। অথচ দেখুন, আমার মতন অলস সন্তান কে ঠেলে দিল ভারত নাট্যম শিখতে। মাতৃ ও পিতৃ স্নেহের বিকাশ কি অদ্ভুত ভাবেই না ঘটে।কি চমত্কার তাদের বাত্সল্য- কি অন্ধ তাদের বিশ্বাস। মাতামহ সাইকেল চালাতেন না তবে অঙ্ক শেখাতেন। একটা ডলস হাউস বানিয়ে দিয়েছিলেন-কিন্তু অতি আশ্চর্য অন্যদের doll’s house এ দরজা খোলা যেত। আমারটায় যেত না। উনি সেই ব্যবস্থা করতে বোধ হয় ভুলে গেছিলেন। বাইরে থেকে দেখতে হত। ভেতরে পতুলদের সংসার দিব্বি চলত; শুধু আমার কোনো ভূমিকা ছিল না। আমি দর্শক কেবলমাত্র। দাদু, তুমি এরকম কেন করলে? আমি জিজ্ঞেস করলাম। দাদু বলল, ভুলে গেছিলাম। দিদিমা ও মা মামারা বলত যে উনি অনেক কিছুই ভুলে গেছিলেন এই জীবনে। এত দ্রুত গতি এই জীবনস্রোতের- কত দায়িত্ব কর্তব্য ই না এই জীবনে মানুষ ভোলে। আমার ঠাকুরদাদা ও নাকি শুধু ভুলো মনের ই ছিলেন না; বদরাগী ও ছিলেন। আমার ওপর কখন ও রেগে যেতেন না। তবে একবার বলেছিলেন আমার আঁকা ছবি ভালো হয় নি। আমি অত দুঃখ এবং ক্রোধে ছবিটা ছিড়ে ফেলে দিলাম। উনি বললেন, এ কি তুমি ছিড়ে দিলে বাবু? আমি বললাম তুমি বাজে বলেছ যে। কি দরকার আমার এই ছবি রেখে। আমি তো সাধারণ সরকারের কর্মচারী ছিলাম বাবু- তোমার বাবা মার মতন কি আর বিলেত ফেরত? আকাশের রং কি আর নীল সবুজ লাল কালো ছাড়া হলুদ হয়? কেন দাদু, মরুভূমি তেও হয় না হলুদ? মরুভূমির স্মৃতি নিয়ে কি আর সাধারণ মানুষ বাঁচে বাবা? আমি তো তাই বললাম।..বাবু রাগ করলে কি আর বলতাম? তা বলে ছিড়ে ফেলবে? আমি শিল্পী নই তবু জানি যে কিছু তৈরী করলে তা অত সহজে নষ্ট করতে নেই।
দিদিভাই তুমি কি জানো  যে পরশুরাম আমার বাবার বন্ধু ছিলেন? এবং বনফুল আমার। বনফুল কে? এ বাবা তুমি বনফুলের কিছু পড় নি? তোমাদের স্কুল এ বাংলা পড়ায় না? পড়ায় তো বটে কিন্তু অত সাহিত্য পড়ে উঠি নি এখন ও । তবে রাজশেখর বসু কে তোমরা চিনতে তা জানি না। হ্যা উনি না খুব গম্ভীর ছিলেন- অত রসিক লোক কে বুঝবে  …
দিদিভাই, তুমি জানো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমরা অনেক কিছু দেখেছিলাম। …দুর্ভিক্ষ হয়েছিল (আমি জানি দাদু উপন্যাস এ পড়েছি!) তাই নাকি কলকাতার লোক তো সব ই ভুলে গেছে।বোরাল এ পথের পাঁচালী শুটিং হয়েছিল -সেটা গ্রাম ছিল, সত্যি গ্রাম ।
হ্যা দাদু– এই জীবনে মানুষ অনেক কিছুই ভুলে যায়।
In the summer of 1945, my two grandfathers were living two very different lives. One was a Calcutta boy, who studied at St. Xaviers and knew mathematics and Sanskrit equally well. His father encouraged him to play the sitar and he furiously refused to go abroad and study, though he later sent his younger brother who was the family’s black sheep to Germany forever.
The other boy dropped out of high school and was sent away from home by his rich older brother to work at a Government job in the railways. He too loved mathematics, but went from one part of India to another to supervise a vastly expanding Indian railways. He never studied formally again, but later in life my two grandfathers were neighbours and spent the evenings discussing mathematics and Bengali literature and the Bengal famine. One was from a family of rich pundits, the other was from a family of disgraced landed gentry- both very different kind of Brahmins ; yet neither had any consciousness nor respect for caste. Both had the customary পৈতে/string which they would stare at in mirrors. Both prayed but were mild atheists. Both wanted to give up their bodies for medical research.
 দুজনেই আমার দুরকমের দারুন দাদু ছিলেন। ১২-১৩ বছর হয়ে গেছে দুজনেই চলে গেছেন। তবে হঠাত করে দুজন কে মনে পড়লে ভাবি যে এই যে আমি এখন ও সাইকেল চালাতে পারি না আর এখনো ঠিক করে বনফুল পড়ে উঠি নি; ওনারা বোধ হয় ভাবতেন যে এই জীবনে মানুষ অনেক কিছুই ভুলে যায়।
About the author:
Has 212 Articles

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Top