Tinpahar
No Comments 91 Views

‘নমামি গঙ্গা ‘

একটি  সংস্কৃত ক্লাস এ গঙ্গা শ্লোক  এর বাংলা তর্জমা পড়ানো হচ্ছিল। শিক্ষক : গঙ্গার জল যে পান করেছে  …. গঙ্গার জল যে পান করেছে   …. , একজন ছাত্র হঠাত  বলে  উঠলো , ” তার নির্ঘাত কলেরা হয়েছে। ”   এর পর সেই ক্লাসে কি ঘটেছিল তা সহজ অনুমেয়। কিন্তু সেই ছেলেটি যে গঙ্গার বর্তমান অবস্হা সম্পর্কে যথেষ্ট  ওয়াকিবহাল তা বলাই বাহুল্য।

   হিমালয় গোমুখ থেকে যার সূচনা ভগবান শিবের জটায় ভড়  করে গঙ্গা পৃথিবীর বুকে বয়ে চলেছে।  ভারত দেশে গঙ্গার ঘাটে হওয়া খাওয়া থেকে গঙ্গা প্রাপ্তি সমস্তটাই গঙ্গা কেন্দ্রিক। ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জলের জন্য গঙ্গার উপর নির্ভরশীল। সেই গঙ্গা আজ দুষিত ,যার ফলে প্রভাবিত হচ্ছে  গঙ্গা পার্শবর্তী ৪০০মিলিয়ন ভারতবাসী। গঙ্গার এই অবস্থা যে একদিনে বা খুব অল্ল্প সময়ের ফল নয় তা কে না জানে। স্কুল এ পড়তে আমি ও আমার অগ্রজরা  গঙ্গা দূষণ নিয়ে অনেক পাতা উল্টেছি। সেই গঙ্গা দূষণ আজ নয় বহু আগে থেকেই জাতীয় ইসু। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে যা আরো একবার মাথা চারা দিয়ে উঠেছিল নির্বাচনের পরও তা যেন ঠান্ডা হবার নয়। গঙ্গাকে দূষণ মুক্ত  করতে বহ কমিটি ,সময় , অর্থ ইতিমধ্যেই খরচ করা হয়েছে ,কিন্তু এত সবের পর গঙ্গা আজও দুষিত ! ১৯৮৬সালের জানুয়ারী মাসে গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রথম গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান  গঠিত হয় , কিন্তু বহু অর্থ ব্যায় করার পর ২০০০ সালে এই প্ল্যান প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তী কালে ২০১০ সালে গভর্নমেন্ট ক্লিনআপ ক্যাম্পেইন  ইত্যাদি না না  পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ২০১৪ সাধারণ নির্বাচনে দূষণ মুক্ত  গঙ্গা একটি অন্যতম ইসু হয়ে দাড়ায়। তাই নব নির্বাচিত মোদী সরকারের বিত্ত মন্ত্রী ‘নমামি গঙ্গা ‘ নামে  ২,০৩৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ করেছে গঙ্গা দূষণ মুক্তি প্রকল্পে। গঙ্গার পার্শবর্তী ৪৮ টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল  ইউনিট  বন্ধ করার নোটিশ পাঠানো হয়েছে।  সম্প্রতি  সুপ্রিম কোর্ট এ পেশ করা সরকারি হলফ নামায় অসন্তুষ্ট বিচারপতি গণ জানতে চেয়েছেন একটি সহজ পাওয়ারপয়েন্ট প্রেসেন্টেসন এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বোধগম্য হয় এমন একটি প্রস্তাব বা প্ল্যান পেশ করতে।  সুপ্রিম কোর্ট আরো জানতে চেয়েছে  যে গঙ্গা আগামী ২০০ বছরে কি পরিষ্কার করা সম্ভব  …..
        এখন সরকার পক্ষ থেকে সাধারণ এর বোধগম্য একটি প্ল্যান পেশ করা হয়েছে। এই প্লান  এ গঙ্গাকে দূষণ মুক্ত করার জন্য যে দুটি প্রাথমিক ও প্রধান পক্রিয়া র উল্লেখ আছে সেগুলি ,আপনাদের কাছে আরো সহজ করে তুলে ধরতেই এই প্রতি ‘বেদন ‘ । এই বিষয়ে গঠিত কমিটির বেশ কয়েকটি  বৈঠকের পর যে তথ্য সামনে এসেছে তা থেকে জানা গেছে প্রাথমিক ভাবে গঙ্গার সবথেকে দুষিত অঞ্চল গুলি চিন্হিত করা হবে। এরপর সেই সকল জায়গায় নদীর নাব্যতা অনুযায়ী অস্থায়ী বাধ প্রস্তুত , এরফলে সেই অংশর জলে স্থিরতা আসবে। এরপর সেই অংশের জল জাপানি টেকনোলজিতে তৈরী  র.ও পিউরিফায়ের দিয়ে পরিশুদ্ধ করা হবে। এর জন্য উন্নত মানের র.ও পিউরিফায়ের বিদেশ থেকে আনার জন্য ঠিক কত টাকা বরাদ্ধ করা হবে সে বিষয়ে  সরকারি আধিকারিকদের  সঙ্গে খুব শীঘ্রই আলোচনা করবেন গঙ্গা দূষণ মুক্তি কমিটির সদস্যরা। এই সমগ্র প্রকিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে সমস্তটা সাধারণের কাছে প্রকাশ করা হবে বলে সিধান্ত হয়েছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে তড়িঘড়ি কোনো সিধান্ত নিতে চাইছে না সরকার ,কারণ গোটা বিষয়টায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা একটা বড় চালেঞ্জ। সূত্রের খবর এই প্রক্রিয়ায় জল পরিষ্কার করা হলেও ঐ জল যেন পুনরায় দুষিত নাহয়ে পরে তার দিকেও লক্ষ্য রাখা জরুরি ,নতুবা এই প্রক্রিয়ায়  বারবার জল পরিষ্কার করেও কোনো ফল পাওয়া যাবেনা। এই বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন একদল পরিবেশবিদ এর নেতৃতাধীন গঙ্গা -প্রেমী  সংগঠন। এদের আরো দাবি গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে বিদেশী সংস্থার সাহায্য নেওয়া কেন , দেশীয় পক্রিয়ায় গঙ্গাকে  দূষণমুক্ত করার কি উপায় আছে তা প্রথমে পর্যালোচনা করা হোক।এই বিষয়ে গঙ্গা-প্রেমী সংগঠন সাথে পেয়েছে বেশকিছু দেশীয় সংস্থাকে , তাদের দাবি বিজ্ঞাপনের মতই কার্যকরী তাদের জল পরিস্রুত যন্ত্র। তাই বিদেশী  সংস্থাকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়ার  আগে পরীক্ষা মূলক কোনো ব্যবস্থার দ্বারা তাদের যন্ত্রের কার্যকরিতা যাচাই করে নিক সরকার। এই বিষয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক বৈঠকে রবীন্দ্রনাথ ,গান্ধী থেকে শুরু করে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রেরণা মূলক  উক্তি আওরাছেন এই প্রতিবাদী দলের নেতারা।এই বিতর্ক যে এখনই থামবে না তা সাধারণ জনতা আর মা গঙ্গা জানেন।
   এই প্রস্তাবের সাথে সাথে অন্য একটি উপায়েও গঙ্গাকে দূষণ মুক্ত করার কথা ভাবছে সরকার।   প্রতিস্থাপন পদ্ধতি। গঙ্গার দূষিত  জল প্রতিস্থাপিত করা হবে। গঙ্গার যে অংশের স্রোত কম এবং জল অপেক্ষাকৃত বেশি দূষিত সেই অংশের জল প্রতিস্থাপিত করা হবে। গঙ্গার যে অংশের জলে স্রোত বেশি সেই অংশের আবর্জনা ক্রমেই জমা হতে থাকে স্রোতহীন বা কম স্রোত অংশে তাই সেই সব জায়গার জল প্রতিস্থাপিত করে দিলেই গঙ্গাকে অনেকটা  দূষণ মুক্ত করা যাবে বলে ধারণা উক্ত কমিটির। এবং এর সাথে সাথে গঙ্গা যেন আর নতুন করে দুষিত না হয় তার দায়িত্ব সরকার ও প্রতিটি সাধারণ মানুষের। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো জল প্রতিস্থাপিত করা হবে কোথা  থেকে?  সূত্রের খবর প্রাথমিক ভাবে অনান্য নদী থেকে বিশুদ্ধ জল এবং প্রয়োজনে সমুদ্রের জলকে কৃত্রিম উপায়ে মিষ্টি জলে পরিনত করে তা দিয়ে গঙ্গার শূন্যস্থান পূরণ করার কথা ভাবছে কমিটি। এই মুহুর্তে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো এই প্রক্রিয়া সফল ভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ইন্ফাস্ট্রাকচার’ ভারতের কাছে আছে কিনা ,বা থাকলেও তা ব্যবহারে কার্যসিদ্ধি  হবে কিনা তা নিয়ে সন্ধিহান সব মহল। কারণ এই বিরাট প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নে অর্থের সাথে সাথে প্রয়োজন নিপুন প্রযুক্তি ও কৌশলের।  এরই সঙ্গে লক্ষ রাখতে হবে যে প্রতিস্থাপিত দুষিত জল যেন গঙ্গা পার্শবর্তী জনজীবনে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলে। তাই বাস্তব পরিস্থিতিতে দাড়িয়ে এই ক্ষেত্রেও বিদেশী সাহায্যের প্রয়োজন নেই সে কথা নিশ্চিত ভাবে  বলা যায়  না।উল্লেখ যোগ্য  ভাবে এই পদক্ষেপটি পূর্বের টির থেকে বেশি বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে।  যে দেশে গঙ্গা ‘ভগবান’, সেই গঙ্গার জল প্রতিস্থাপন।  প্রতিস্থাপিত জলতো কখনই গঙ্গার জল হতে পারেনা। তাই ধার্মিক গুতো খাছে এই প্রস্তাবটি। গঙ্গার প্রতিস্থাপিত জলকে গঙ্গার পবিত্র জলের মর্যাদা দিতে নারাজ বহু ধর্মীয় সংগঠন। তাই এই বিষয়ে কোনো প্রকার চূড়ান্ত সিধান্ত এখনই নিচ্ছে  না সরকার।
       গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে নতুন সরকার যে পদক্ষেপ গুলি গ্রহণ করেছে তা নিশ্চয় প্রশংসা যোগ্য ,কিন্তু তার বাস্তব ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাছে। তাই কোর্ট এর ২০০ বছর তত্ব সাভাবিক ভাবেই খুব বিশ্বাস যোগ্য বলে মনে হচ্ছে। তাই সাধারণ জনগণ পরিষ্কার গঙ্গার জন্য ‘মা গঙ্গা’ কেই ভরসা করছে সবচেয়ে বেশি ! আর অসস্থি এড়াতে দূষণমুক্ত গঙ্গা প্রশ্নে সরকার পক্ষের নেতা কর্মীদের এখন একটাই উত্তর “নমামি গঙ্গা। “
About the author:
Has 214 Articles

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RELATED ARTICLES

Back to Top