Tinpahar
No Comments 63 Views

পার্কের কোনায় চুমু খাওয়া অথবা শিব্পার্বতীর বিসর্জনের গল্প

পার্কের কোনায় চুমু খাওয়া অথবা শিব্পার্বতীর বিসর্জনের গল্প

ISSN 2349-6207

পাতাউর জামান

ঠিক ভেবে পাচ্ছিলো না, কোন খানে হারাবে। সকাল থেকে ঘুরছে অথচ হারাবার কোনো জায়গা পাচ্ছিল না সন্ধ্যা আর প্লাবন ।

কাল থেকে কলেজ ছুটি। দেখা হবে না মাসখানেক। পার্কের গাছের গোড়ায় পুলিশ, বেঞ্চির কোণায় ফেরিওয়ালা, আঁধার রাস্তার ধরে ভিখারি। ‘ ধ্যাততেরি-কোলকাতার রাস্তায় আর প্রেম করার জায়গা নেই’ । সন্ধ্যা প্লাবনের হাত ধরে টানতে টানতে ঘাটের দিকে নিয়ে যায়।

এ দিকটা নির্জন। গঙ্গার হাওয়াও নিঃসঙ্গতার রেশ ধরে একা একা কচুরিপানাগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দু’একটা ভিনদেশি জাহাজ বড়ো করে সাইরেন দিয়ে গঙ্গার নিরবতাকে উপস্থিত জানান দিচ্ছে।

সেই সকাল থেকে বের হযেছিল দু’জনে। নন্দনে সিনেমা, একসাথে ঘোরা, হলদিরাম সবই হলো। অথচ একটাও চুমু খেতে পারেনি।

গঙ্গার এদিকটায় এসে দু’জনে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে। সন্ধ্যার হাত আশ্রয় নেয় প্লাবনের হাতে। বিকেলটা আরও গড়ায়। প্লাবন ইংরেজি সিনেমার কায়দায় সন্ধ্যার ঠোঁটে চকাস করে একটা চুমু খায়। দেবতার তৃপ্তিতে আটকে থাকে দুজন। কতক্ষণ ছিল জানে না।

হঠাৎ করে গঙ্গার পাড়ের আলোগুলো জ্বলে ওঠে। দেখে, পাশে দাঁড়িয়ে মধ্যবয়স্ক একজন ভদ্রলোক ওদের দিকে তাকিয়ে আছে। সন্ধ্যা তাড়াতাড়ি মুখটা সরিয়ে নেবার চেষ্টা করে। প্লাবনও। কিন্তু ম্যাজিকের মত কোনো এক অজানা জাদুকাঠির স্পর্শে দু’জোড়া ঠোঁট ছাড়তে চায় না। অনেকটা ফেভিকুইকের বিজ্ঞাপনের মত। চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। মধ্যবয়স্ক লোকটা হাসতে হাসতে চলে যায়।

অনেকক্ষণ হলো। তা বেশ ঘন্টাখানেক। তাও ছাড়েনি। পাড়ার ক্লাবের ছেলেরা এসে চেষ্টা করে গেছে, পারেনি। পুলিশ করাত নিয়ে এসেছিল কেটে আলাদা করবে বলে, ঠোঁট দুটো কেটে যাবার ভয়ে সটকে পড়ে। স্বেচ্ছাসেবকেরা মন্দিরের পুরোহিত ডেকে মন্ত্র পরে ছাড়াবার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি। দেবতার অপমান ভেবে অভিশাপ দিয়ে চলে যায়।

অনেকক্ষণ এই ভাবে থাকার ফলে চুম্বনের স্বাদ হারায় দু’জনে। একে অপরের লালায় মুখ ভর্তি করে। একে অপরের শরীরের উপর এত বিতৃষ্ণ হতে পারে, ভাবতে পারেনি। হঠাৎ মনে পড়ে এই গঙ্গাতেই তো দেবীর বিসর্জন হয়। তখন দেবীর এক একটি অস্ত্র, অঙ্গ এই গঙ্গাতেই ভেসে যায় – এমন ভাবতেই দু’জন পা বাড়ায় গঙ্গার দিকে। এ দিকটায় জল বড্ড বেশি ঘোলা। বড্ড বেশিই যেন ঘোলা হয়ে গেছে এদিকটা। আর মাত্র কয়েক ধাপ বাকি। সন্ধ্যা আর প্লাবন শিবপার্বতী হয়ে জলের কিনারার কাছে এসে পড়ে।

এবার দেবী বিসর্জনের পালা শুরু হবে।
# #

About the author:
Has 212 Articles

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Top