Tinpahar
No Comments 25 Views

ভারত চীন সম্পর্কে ফাটল (Statue of unity sparks new tension between India and China)

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মধ্যে প্রায়  2599790000  মানুষ যে দুটি প্রতিবেশী দেশে বসবাস করেন তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক যে পুরো বিশ্বের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না , কিন্তু এই সম্পর্কে যদি কোনো এক অদ্ভুত বিষয়কে কেন্দ্র করে চিড় ধরে তবে তা নিশ্চিত ভাবেই উদ্বেগ ও কৌতুহল এর বিষয় হয়ে উঠবে।
সম্প্রতি ভারত ও  চীনের পারস্পরিক সম্পর্ক খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এক অদ্ভুত বিষয়কে কেন্দ্র করে।
এতদিন যাবৎ ভারত-চীন সম্পর্ক মূলত কূটনৈতিক বিষয় , বানিজ্যিক আদান-প্রদান এবং সীমান্ত প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তাতে আরো একটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং শুধু তাই নয় উক্ত বিষয়টিই যেন প্রধান হয়ে উঠেছে।
বিষয়টি আর কিছু নয় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী তথা বি.জে. পি. র প্রধানমন্ত্রী পদ-প্রাথী শ্রী নরেন্দ্র মোদী কর্তৃক ঘোষিত সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল এর মূর্তি নির্মান কর্মসূচী।
খুব স্বাভাবিক ভাবেই সকলের মনে এই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য যে ভারত এর অন্যতম জনপ্রিয় স্বাধীনতা  সংগ্রামী তথা ভারত নির্মান এর অন্যতম কারিগর এর মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে কি ভাবে দুটি দেশের সম্পর্ক খারাপ হয়ে উঠতে পারে?
কিন্তু বিষয়টি নিয়ে একটু গভীর ভাবে ভাবলে খোলসা হবে।
“Statue of unity” শীর্ষক মূলত মূর্তি নির্মানের এই কর্মসূচী প্রতিবেশী দেশ চীনের গর্ব করার মত দুটি বিষয়ে আঘাত হেনেছে।
প্রস্তাবিত এই কর্মসূচী বাস্তবায়িত  হলে তা পাল্লা দেবে চীনের প্রাচীর এর সাথে।কিন্তু কি ভাবে?
কথিত আছে মূলত মঙ্গোলিয়ানদের আক্রমনের হাত থেকে সাম্রাজ্য রক্ষার্থে নির্মীত সুবিশাল চীনের প্রাচীর পৃথিবীর একমাত্র বস্তু যা চাঁদ থেকে খালি চোখে দৃশ্যমান। কিন্তু ১৮২ মিটার লম্বা স্ট্যাচু অব উনিটি নির্মীত হলে চীনের প্রাচীরের মুকুটের এই বিরল পালকে ভাগ বসাবে সর্দার বল্লবভাই  প্যাটেল  এর ঐ পূর্নাবযব মুর্তি।
বিশেষজ্ঞের  মতে ১৮২ মিটার লম্বা এই মুর্তি, নিচের স্তম্ভ যোগ করলে যার মোট উচ্চতা দাড়ায় ২৪০ মিটার, এই মুর্তি নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে তা চাঁদ থেকে খালি চোখে দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কয়েক ধাপ এগিয়ে কেউ কেউ আবার বিষয়টিকে কেবলমাত্র সম্ভাবনার স্তরে সীমাবদ্ধ রাখতে নারাজ।তাদের মতে চাঁদ থেকে খালি চোখে এই মূর্তি দেখা যাওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
আর এতেই দানা বেধেছে বিতর্কের। চিড় ধরার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্কের। চীন সরকার বিষয়টি মেনে নিতে সম্পূর্ণ ভাবে নারাজ। প্রকাশ্যে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য না করলেও সূত্রের খবর ( অতি কষ্টে সংগ্রহ) বিষয়টি নিয়ে চীন সরকার শুধুমাত্র চিন্তিতই নয় রীতিমত ক্রুদ্ধ।
তাদের মতে কয়েক শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যময় এই স্তাপত্য নির্মাণ করার ক্ষেত্রে যে প্রতিকূলতার সন্মুখীন হতে হয়েছিল তত্তকালীন যুগের নির্মান শিল্পীদের বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে এবং অনুকুল পরিস্হিতিতে নির্মীত কোনো স্তাপত্য কিভাবে চীনের প্রাচীরের বিরল কৃতিত্বে ভাগ বসাতে পারে? চীনের আরো বক্তব্য এই যে ভারত সরকারের উচিত ছিল এহেন কোনো পদক্ষেপকে  গোড়াতেই বন্ধ করে দেওয়া। বিশেষত সেটির সাথে যখন আন্তর্জাতিক প্রশ্ন জড়িত।
এই পরিকল্পনার কথা প্রথম ঘোষণা হয়েছিল প্রায়  তিন বছর আগে ২০১০ সালের ৭ই  অক্টোবর। বিষয়টি তখনই  গোচরে এলেও শুরুতে চীন সরকার বিষয়টি সেই ভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে দেখেনি।এই নিয়ে চীনের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে।  চীনের বর্তমান নেতাদের মতে শুরুতেই বিষয়টি সম্পর্কে কড়া মনোভাব নিলে বিষয়টি শিলান্যাস পর্যন্ত গড়াতো না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২৫০০ কোটি টাকা খরচ করে তৈরী হতে চলা সমগ্র কর্মসূচীটির শিলান্যাস হয়েছে মাত্র দু মাস আগে। বর্তমানে পরিকল্পনাটিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুজরাট সরকার যথেষ্ট তত্পরতার সাথে কাজ শুরু করে দিয়েছে। তার সর্বশেষ সংযোজন হলো রান ফর উনিটি কর্মসূচী। ১৫ ডিসেম্বর বল্লবভাই প্যাটেল এর ৬৩ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে মূর্তি নির্মাণ এর জন্যে প্রয়োজনীয় লোহা সংগ্রহ অভিযান এর সূচনা করেছেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী।এক দৌড়ে ভারতের ৭ লক্ষ্য গ্রামের কৃষকদের থেকে মূর্তি নির্মাণের জন্যে লোহা সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে রাষ্ট্রীয় একতা ট্রাস্ট এর।, এই ট্রাস্টই মূর্তি ও তৎ-সংলগ্ন স্থানে প্রদর্শনী  গৃহ ,বাগান ,হোটেল ইত্যাদি ইত্যাদি তৈরীর কাজের তদারকী করবে।
স্তৌএ অফ উনিতী তৈরী হলে চীনের আরো এক রেকর্ড ভাঙতে চলেছে, এবং এটি সম্পূর্ণ নিশ্চিত এবং বাস্তবিক। এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর উচ্চতম মূর্তি হলো চীনের স্প্রিং টেমপল  বুদ্ধ, যার উচ্চতা হলো ১২৮ মিটার।যা স্তৌএ অফ উনিতী অপেক্ষা যথেষ্ট কম।
আর মূলত এই দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই ভারত- চীন সম্পর্ক এখন প্রশ্নের মুখে।
বিষয়টি মেনে নিতে চীন সরকার কোনো ভাবেই প্রস্তুত নয়.জানা গিয়েছে যে চীন বিষয়টি নিয়ে এতটাই ক্রুদ্ধ যে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে আলোচিত হওয়া বর্ডার ডিফেনস কর্পোরেশন এগ্রিমেন্ট এর মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তা প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া অরুনাচল প্রদেশ প্রশ্নে চীন যে আরো অনড় মনোভাব নেবে তা সহজেই অনুমেয়।
ভারতের কংগ্রেস সরকার বিষয়টি নিয়ে বস্তুতই যথেষ্ট চিন্তায় পড়েছে। চীন কেবল মাত্র প্রতিবেশী দেশই  নয় এশিয়া তো বটেই সমগ্র বিশ্বের এক অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী দেশ। চীনকে মুর্তি নির্মাণের মত বিষয় নিয়ে চটাতে চাই না ভারত সরকার।কিন্তু করণীয় কিছু নাই। কারণ সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল শুধুমাত্র একজন স্বাধীনতা  সংগ্রামীই ছিলেন না তিনি ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট মন্ত্রী তথা তত্কালীন  কংগ্রেস এর এক শীর্ষ স্থানীয় নেতা। ফলে তাঁর মূর্তি নির্মাণের কর্মসূচীকে মহৎ  আখ্যা দেওয়া ছাড়া কংগ্রেস এর সামনে আর দ্বিতীয় কোনো রাস্তা খোলা নেই। আবার চীনকে চটানোর ঝুকিও তারা নিতে চাই না। এক কংগ্রেস নেতার বক্তব্য “এই পরিস্তিতি হলো উভয় সংকটময় পরিস্তিতির উত্কৃষ্ট উদাহরণ।”
অন্যদিকে  বি.জে. পি. পুরো বিষয়টি থেকে লাভের গুড় ঘরে তুলতে ব্যস্ত। স্ট্যাচু  অফ উনিতী র এই সমগ্র ভাবনা এবং তৎ-সম্পর্ক যুক্ত কর্মসূচী গুলির মাধ্যমে  বি.জে. পি.র  যে জনসংযোগ বেড়েছে তা এক কথায় সকলেই স্বীকার করে নিচ্ছে।ফলে বি.জে. পি. নেতারা কংগ্রেস এর এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে কটাক্ষ করতেও পিছ-পা হচ্ছেন না। বিশেষত দেশের সাধারণ নির্বাচন যখন আসন্ন তখন এহেন একটি বিষয় নিয়ে কংগ্রেস কে বিপাকে ফেলার সুযোগ ছাড়ছে  না বি.জে. পি.
কং-বি.জে. পি. সম্পর্ক কখনই মধুর নয় ,কিন্তু চীন?আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করলে ভারত- চীন সম্পর্কের দায় যে বি.জে. পি. র ওপরও বর্তাবে আপাতত সরকার গঠনের স্বপ্নে বুদ  বি.জে. পি. সেই প্রশ্ন নিয়ে ভাবতে নারাজ।
ভারত-চীন সম্পর্ক খারাপ হলে ভারতের যে লাভ হবে না তা প্রায় সব পক্ষেই মেনে নিচ্ছেন। কিন্তু বিষয়টি এতটাই স্পর্শকাতর যে এই নিয়ে ভারত সরকার কোনো পদক্ষেপ করতেও সক্ষম নয়। বিশেষত  যেখানে জাতীয় সন্মানের প্রশ্ন জড়িয়ে।
দিল্ল্লির জহরলাল নেহেরু বিশবিদ্যালয় এর চীনা  ভাষার এক ছাত্র মনে করেন , বিশ্বের দীর্ঘতম মূর্তির অবস্থান ভারতে শুধুমাত্র তাই নয় মূর্তিটি আবার চাঁদ থেকে খালি চোখে দৃশ্যমান ,বিষয়টি ভাবতে যতই রোমাঞ্চকর হোক এর সাথে জড়িয়ে ভারত-চীন সংঘাতের সম্ভাবনা। কাজেই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক ভাবে অগ্রসর হওয়া উচিত।
কোনো না কোনো ভাবে চীনের উপর নির্ভরশীল ভারতীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। তা সে চীনা খাবার এর নামী কোনো প্রতিষ্ঠানই  হোক বা চাঁদনীচকের চীনা বৈদুতিন সামগ্রী বিক্রেতাই হোক। দিল্ল্লির জহরলাল নেহেরু বিশবিদ্যালয় এর চীনা ভাষার ছাত্র-ছাত্রীদের নেতৃত্বে ইতিমধেই এই নিয়ে বিভিন্ন সভা -সমিতির আয়োজন করা হয়েছে।সূত্রের খবর অতি শিগ্রই সমন্নয় কমিটি তৈরী করে ছাত্র-ছাত্রীরা দেশ জুড়ে অন্দোলন শুরু করতে চলেছে।
তবে বর্তমানে ভারতের যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাতে অন্ন্দলোন্কারীদের সংখ্যার তুলনায় মোদী-বাদী রাই সংখ্যাগুরু।
এই পুরো ঘটনায় ভারত ও চিনের কুটনৈতিক সম্পর্কে শেষ পর্যন্ত কি প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে তবে এর ফলে ভারত-চীনের সাধারণ মনুষের সম্পর্কে প্রভাব পর্বে না বলেই মনে করেন সদ্য ভারত থেকে ঘুরে যাওয়া এক চীনা  তরুণী।
স্ট্যাচু অফ উনিতী কর্মসূচীকে ঘিরে যখন বিশ্ব জুড়ে এহেন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তখন কি বলছেন এই কর্মসূচীর প্রাণ পুরুষ নরেন্দ্র মোদী?এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে জানা গেছে যে সদ্য সমাপ্ত ৪ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভাবে জয়ের পর তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ চড়েছে, ফলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তিনি এখন চূড়ান্ত ব্যস্ত। তবুও এই ব্যস্ততার মধ্যেও একটি জনসভা সেরে ফেরার পথে বিষয়টি নিয়ে তিনি কেবল মাত্র দুটি শব্দ উচ্চারণ করেচেন – ” NO COMMENTS”
Tagged with: ,
About the author:
Has 214 Articles

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RELATED ARTICLES

Back to Top