Tinpahar
No Comments 13 Views

“রাহুল কি রানী ” ও “মোদী কি মেহেবুব”

শুরু হয়ে গিয়েছে ভারতের তথা বিশ্বের বৃহত্তম রিয়ালিটি শো। গণতন্ত্রের রিয়ালিটি শো। দেশ জুড়ে সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে জিতিয়ে আনবেন ৫৪৪ জন প্রার্থীকে। পৃথিবীতে এর আগে কোনো রিয়ালিটি শো তে এতো বেশি সংখ্যায় নির্বাচক-মন্ডলীর অংশগ্রহন দেখা যায়নি।
প্রতিবেদনের বিষয় বস্তু ভারতের ১৬ তম সাধারণ নির্বাচন নয়,কাজেই হতাশার ও কোনো কারণ নেই।
গণতন্ত্রের রিয়ালিটি শো যত জমে উঠছে ততই ব্যবসা বাড়ছে দেশের ছোট বড় প্রায় সমস্ত সংবাদ চ্যানেল। ভোটের নিত্যনতুন খবর জানতে আম জনতার বড় ভরসা এই চ্যানেল গুলির টি.আর.পি. র পারদ স্বাভাবিক ভাবেই উর্ধমুখী। ফলে আয় হচ্ছে দেদার।সাথে উপরি পাওনা হিসাবে পেইড-নিউজ তো আছেই।কিন্তু এই ভোটের মসরুমে কেবল মাত্র নিউজ চ্যানেল গুলিই মুনাফা করবে কেন? দেশের তাবড় বিনোদন মূলক চ্যানেল গুলিও। মুনাফার জন্যে তারা সব কিছু করতেই রাজী। দেশের বৃহত্তম একটি বিনোদন মূলক চ্যানেলের  আসন্ন কিছু শো এর পরিকল্পনা থেকে এই রকমই  আভাস মিলেছে।জানা গিয়েছে যে ভোট প্রাথীদের নিয়ে নানা রকমের রিয়েলিটি শো করতে চলেছে একাধিক চ্যানেল। সেইসব শো এর কর্মসূচীতে নাচ গান ও বিভিন্ন ধরনের মজার খেলা যেমন রয়েছে তেমনই স্থান পেয়েছে ভাষণ দেওয়া ও কে, কত বেশি মনজয় করা প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন তারও পরীক্ষা।
কিন্তু এই সবের মধ্যেই যে রিয়ালিটি শো সারা ভারত তথা বিশ্বে সাড়া ফেলে দিতে চলেছে তা হলে “প্রধানমন্ত্রী ক স্বয়ম্বর ” নামের একটি অভাবনীয় রিয়ালিটি শো। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে এই রিয়ালিটি শো এর মুখ্য বিষয় বস্তু লুকিযে আছে এর নামে !
অনেকেই যা ভাবছেন বিষয়টি একেবারেই তাই। লোকসভা নির্বাচনে ঘোষিত  ও অঘোষিত ভাবে প্রধানমন্ত্রী পদ প্রাথী হলেন নরেন্দ্র মোদী ও রাহুল গান্ধী। সূত্রের খবর রিয়ালিটি শো এর মাধ্যমে এদের দুজনের পছন্দের এবং যোগ্য পাত্রী খোজার তোড় জোড় সুরু করে ছিলো একটি চ্যানেল।এই বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের কাজও শেষ হয়ে গিয়েছিল।
এই রিয়ালিটি শো এর এক উদ্যোগতা জানান যে লোকসভা ভোটের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু ফলাফল ঘোষণার পর ১ মাস পর্যন্ত এই শো চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের।
ওই কর্তা জানান শো এর নিয়ম-কানুন থেকে শুরু করে অডিশন পর্যন্ত প্রক্রিয়া প্রায় পুরোটাই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল।রাহুল না মোদী কে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হবেন তা জানার আগে পর্যন্ত অর্থাৎ মোটামুটি ভাবে ১৬ই মে র আগে পর্যন্ত এই শো তে “রাহুল কি রানী ” ও “মোদী কি মেহেবুব” নামের দুটি বিভাগ রাখা হয়েছিল।ঠিক ছিল কে শেষ তক প্রধানমন্ত্রী হন তা দেখে একটি বিভাগ বাদ দিয়ে দেওয়া হবে।
কিন্তু হায় ! তার আর দরকার পড়ল না। মোদী নিজেই জানিয়া দিলেন তিনি বিবাহিত। ফলে শুরু হওয়ার আগেই জোড় ধাক্কা খেল এই শো এর পরিকল্পনা।
কিন্তু কেমন ছিল এই শো এর প্রাথমিক নিয়ম-কানুন? হতাশ এক উদ্যোগতার সাথে কথা বলে তারই বিস্তারিত জানা গেল। প্রাথমিক ভাবে শোতে অংশগ্রহন এর  জন্যে ৫৪৪ জন অবিবাহিত মহিলাকে অডিশনের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয়েছিল।ঠিক ছিল মোদী এবং রাহুল নিজেদের পছন্দ মত ২৭২ জন করে অংশগ্রহনকারিকে বেছে নেবেন। মোদী যাদের বাছবেন তারা “মোদী কি মেহেবুব”  বিভাগে থাকবেন এবং রাহুল যাদের বাছবেন তারা “রাহুল কি রানী ” বিভাগে থাকবেন। যদি কোনো ক্ষেত্রে দুজনেরই পছন্দ এক হয় এবং আলোচনায় যদি রফাসূত্র না মেলে সেক্ষেত্রে টসই হবে শেষ ভরসা।
তবে এই শোতে স্থান পাওয়া বিভিন্ন নির্ণায়ক পদ্ধতি বা আইটেম গুলির বিষয়ে অবশ্য উদ্যোগতারা মুখ খুলতে নারাজ।
এই শো এর অর্ধেকের বেশীই ভেস্তে দিল  স্ত্রীর উপস্থিতি। এই নিয়ে চাপা গুঞ্জন চলছিলই। কিন্তু গুজরাতের বদদরা লোকসভা আসনের জন্যে মনোনয়ন পত্র দাখিলের সময় মোদী নিজে মনোনয়ন পত্রে যশোদাবেন নাম এক অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকাকে তার স্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়ায় প্রবল বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করে কাজ না হাওয়াই কংগ্রেস ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট এ যাওয়ারও হমকি দিয়েছে।বি.জে.পি. আবার দাবি করেছে যে ডুবন্ত অবস্থায় কংগ্রেস হাতের কাছে যা পাচ্ছে তাই আকড়ে ধরে ভেসে থাকতে চাইছে। তাই মোদীর ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে  দেখাচ্ছে কংগ্রেস।
কিন্তু রাজনৈতিক চাপানউতোর নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ ওই রিয়েলিটি শো এর কর্তারা। এই কিথ তারা অকপটে স্বীকার ও করছেন।কোনো রক-ঢাক না রেখেই চ্যানেলের এক কর্তা বলেছেন যে “মোদী প্রধানমন্ত্রী হোক কি রাহুল তা নিয়ে আমাদের কোনকালেই চিন্তা ছিল না, আমাদের চিন্তা ছিল এই অভিনব রিয়ালিটি শো নিয়ে,যার ভবিষ্যত এখন বিশ বাঁও জলে। “এই শো এর সাথে যুক্ত সকলেই বিষয়টি নিয়ে স্বভাবতই মর্মাহত। শো এর এক কর্মী আপশোস করে বলেন যে শেষ পর্যন্ত এই শো কতটা বাস্তবে রুপান্তরিত হবে তা নিয়ে এখন প্রবল সংশয় দেখা দিয়েছে ঠিকই তবে,এই শো পূর্ব পরিকল্পনা মত যদি বাস্তব রূপ পেত তবে তা ভারতে তো অবশ্যই বিশ্বেও সারা ফেলে দিত। উদ্যোগতারা নাকি বিশ্বের নানা দেশে এই শো সম্প্রসারনের ব্যবস্থাও করে ছিলেন।এই শো এর মূল যার ,তার সাথে অতি কষ্টেও যোগাযোগ করা যায়নি। হাঠাত মোদী বিবাহিত এই খবরে তিনি এতটাই আঘাত পেয়েছেন যে এই মুহুর্তে তিনি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। তবে তার স্ত্রী আমাদের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন যে প্রথম যখন এই অভিনব চিন্তা-ভাবনার কথা তাকে এবং বন্ধু মহলে জানিয়ে ছিলেন তখন স্বাভাবিক ভাবেই সকলে  নেহাতই হাসির খোরাক বলেই মনে করেছিলেন। কিন্তু কে জানত এমন হাসির খোরাক বেচেই রাতারাতি কোটিপতি তো বটেই বিখ্যাতও হয়ে উঠতে যাচ্ছিলেন তিনি।কেউ কেউ মোদীর বয়স বিয়ের পক্ষ্যে উপযোগী নয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু অতীতে বিখ্যাত লেখক সালমান রুশদী থেকে শুরু করে ভারতে বেশি বয়সে বিয়ে করার ভুরি ভুরি উদাহরণ তুলে ধরে তিনি এই প্রাথমিক বাধা কাটান।তার উপর প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী বলে কথা!
তার স্ত্রী আরো বলেন যে এই চ্যানেলের এক কর্মীর মাধ্যমেই চ্যানেলের কর্তাদের কাছে নিজের ভাবনা নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন তার স্বামী। প্রাথমিক বাধা বিপত্তি কাটিয়া বিষয়টি নিয়ে শুধু উত্সাহ দেখানোই নয়,বানিজ্যিক ভাবে অগ্রসর ও হয়েছিল এই চ্যানেলের কর্তিপক্ষ।কিন্তু হাটাত সবই কেমন গোলমাল হয়ে গেল!
শো সম্প্রসারিত হলে রাতারাতি বিখ্যাত হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন যে দম্পতি ,শুরুর আগেই এহেন বিপর্যয় ঘটে যাওয়ায় এখন তারাই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
তবে রহস্যে হলো এই যে মোদী বা রাহুল এই বিষয়ে কতটা সন্মতি জানিয়েছিলেন বা এখন এই শো নিয়ে তাদের মনোভাব কি তা নিয়ে কিছুই জানা জায়নি। নিজে বিবাহিত জেনেও এহেন শো করে কেন সন্মতি জানিয়াচিলেন মোদী?কেনই বা বদলালেন মত?উঠছে এইসব প্রশ্নও।ভোটের প্রচারে ব্যস্ত রাহুল বা মোদী কারোরই এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উদ্যোগতারা অবশ্য এখনো আশাবাদী। তাদের কেউ কেউ আশা করছেন যে যেহেতু মোদীর সঙ্গে তার বর্তমান স্ত্রীর কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই ফলে চেষ্টা করলে হয়ত শোটিকে এখনও পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া যাবে !তবে এহেন চিন্তা-ভাবনা আসার স্তরেই সীমাবদ্ধ। কারণ মোদী বা বি.জে.পি।  কেউই এই নিয়ে প্রকাশ্যে এখনও কোনো আশারবাণী শোনায়নি। ভোটের কথা মাথায় রেখে প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাহ-বিচ্ছেদ করে রিয়ালিটি শো এর মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ের কোনো সম্ভাবনাও প্রি নেই বললেই চলে!
পরিকল্পনা-প্রক্রিয়া-মুনাফা,সর্বপরি ৫৪৪ জন অংশগ্রহণকারীর উত্সাহ-আবেগে জল ঢেলেছে মোদীর স্বীকারোত্তি। জনমানসে জাগিয়েছে একরাশ প্রশ্ন। দেশের সব চায়ের দোকানে আলোচনায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে বিষয়টি। রাজনৈতিক তর্জার অবসান নেই।শো এর ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত উদ্যোগতারা এখনও কোনো স্থীর সিধান্ত নিতে পারেননি। কিন্তু এই সবের মধ্যেই গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ট এক কংগ্রেস নেতা মন্তব্য করেছেন যে শেষ পর্যন্ত রিয়েলিটি শোর মাধ্যমেও যদি রাহুলের বিয়েটা হতো…সনিয়াজীর সবচেয়ে বড় চিন্তাটি কিছুটা হলেও লাঘব হতো !!! 
Tagged with: ,
About the author:
Has 214 Articles

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RELATED ARTICLES

Back to Top