Tinpahar
No Comments 27 Views

সম্পর্ক: শরৎ-সেপ্টেম্বর

স্বাতী গাঙ্গুলী

 

এই শরৎকাল এলেই  ‘কাম্‌ সেপ্টেম্বর’ কথাটা আমার মাথায় পাক খেতে থাকে। ষাটের দশকের  এই বিখ্যাত হলিউড সিনেমাটি রোম্যান্টিক সম্পর্ক এবং  হুল্লোড়ে অ্যাডভেঞ্চার কেন্দ্রিক। দেখার সৌভাগ্য হয়নি প্রথম যৌবনে। বস্তুত কখনোই নয়। যদিও রাত জেগে দর্শন ও শ্রবণ হয়েছে কতো না পুরনো  রোম্যান্স। আর কে না জানে রোমান্স না হলে কিছুতেই সপ্তম সুরে বাজবে না সম্পর্কের সুর। একেবারে হলফ করে বলতে পারি  যে সম্পর্ক বললেই আমাদের মনের মধ্যে একেবারে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ভেসে ওঠে একটু শালীন দূরত্বে—মোটরবাইক বা ছাতার তলায়, ছাদের আলসের কাছে, বা সমুদ্রের ধারে,  নারী ও পুরুষ শরীর।  রোম্যান্স- সম্পর্কের শ্রেষ্ঠ সিম্বল গুলো  তো সিনেমার দৌলতেই নিশ্চই। অন্তত আমার তো স্মৃতি  ব্ল্যাক অ্যাণ্ড হোয়াইটেই খোলতাই। সেখানে দিনের আলো যতোই প্রখর হোক আদতে সবই ছায়াময়-মায়াময়, সঙ্গীতের মূর্ছনায়  বিহ্বল। সেই দূরে যাওয়া, সেই ঘাড় ঘুরিয়ে ফিরে চাওয়া—একে বলে কটাক্ষ( যা এখন প্রায় বিরল)  সেই  দৌড়ে কাছে আসা, তা কী কখনো আধোখানি ভালোবাসা হতে পারে? কদাপি না, সেই পরিপূর্ণ প্রেম-সম্পর্ক; এ বিষয়ে বিতর্ক নেই। থাকতে পারে না কারণ দর্শকের সামনে স্ক্রীনজোড়া ক্লোজ-আপে নারী ও পুরুষের আবেগ-উচ্ছল মুখ–উত্তম-সুচিত্রা, রাজ-নার্গিস, ইনগ্রিড—গ্রেগরি, যা মন পসিন্দা ভেবে নিলেই হলো। সেই মুখের উপর তন্ময় হয়ে থাকা ক্যামেরা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে এটাই সম্পর্কের সারাৎসার।

আমি জানি এই পর্যন্ত পড়ে আমর কিছু অল্পবয়েসী বা ধেড়ে বন্ধুরা মাথা নেড়ে বলবে, ‘এ কেমন কথা! রোম্যান্স মানে শুধুই নারী-পুরুষ জুটি কেন? দুটি মেয়ে বা দুটি পুরুষ নয় কেন? কেন তোমার লেখায় সম্পর্কের কথা উঠলেই কেবলি হেট্ট্রোনর্মেটিভিটির জয়গান?’ কল্পনার কমতি কবুল করে মাফ চাওয়া ছাড়া কোনও উপায় আছে কী? আমরা কী চট করে ভাবতে পারি  বব চুল উড়িয়ে ঐ পাগল-করা মাদক হাসিতে দিগন্ত উদ্‌ভাসিত করে মোটরবাইক চালিয়ে যাচ্ছেন সুচিত্রা আর তার পিছনে বেড়া বিনুনী, সলজ্জ বুদ্ধিদীপ্ত মুখে বসে আছেন সাবিত্রী, তাঁর কোমর জড়িয়ে?   পড়া মাত্র মুচকি হাসিতে ঠোঁট বেঁকেছে তো  অথবা হো হো অট্টহাস্য করেছেন? অথচ বাইক -বাহন শুভেন্দু আর সোমিত্রকে ভাবতে অসুবিধে নেই ? নেই বলেই তো  ইয়েহ দোস্তি গানের অমিতাভ-ধর্মেন্দ্র কে পাওয়া গেছে। তার মানে পুরুষদের নিবীড় কাছে আসার মধ্যে আমাদের অস্বস্তি নেই, কারণ তা ‘বন্ধুত্বের’ ধাঁচায় চট করে গুঁজে দেওয়া যায়, তার মধ্যে রোম্যান্স ও যৌনতা খুঁজে নেওয়ার তাগিদ থাকে না।

সমকামীতা সচেতন সংবেদনশীল বন্ধুরা আবার আমাকে ক্যাঁক করে চেপে ধরবেন : হোমো সোশ্যাল বন্ডিং আর  লেসবিয়ান-গে যৌনতার পার্থক্য করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে; বলবেন ‘দোস্তানা’ দেখনি?  ‘গার্লফ্রেন্ড’? আর এই যে দেড় ইশকিঁয়া তে মুন্নি আর তার বেগম পারার মধ্যে যে নিবীড় সখিত্ব, যে মমতা-ভালোবাসা সেই সম্পর্কে যে সেক্সও আছে সেটা কী চমৎকার বুঝিয়ে দিয়েছেন পরিচালক? বটেই তো কী অপূর্ব ইসমৎ চুঘতাই এর ‘লিহাফ’ এর উল্লেখ, এবং একটু উর্দু-হিন্দি  সাহিত্য-পড়া দর্শক এবং সমকামীতা সচেতন পড়ুয়া বন্ধুরা শুধু নয় আম- ঔরৎ-আদমী রাও ছায়া-দৃশ্যে এ বুঝে যাবেন এই দুই জানের জিসমের নৈকট্য। সুতরাং এখন সময় বদলে গেছে, সম্পর্ক  বলতে অনেক লিঙ্গ-পরিচয়ের পারমিউটেশনে তৈরী এক ঘন বুনোট।  জট বেড়েছে কিন্তু জুটিরা রয়ে গেছেন। ওইটেই মূল কথা। এবং সেটাই যে সম্পর্কের একমাত্র সূচক নয় সেই কথাটা বলতেই ওই ‘কাম্‌ সেপ্টেম্বরে’ এর প্রসঙ্গ।

এই যে আমার এই সিনেমাটার বেলায় দেখার ইচ্ছে ডানা মেলেনি, তা সম্ভবত ওই নামটার জন্য। অদ্ভুত ঠেকছে? আসলে বয়ঃসন্ধি এবং তার পরেও অনেকটা সময় আমি ‘কাম্‌ সেপ্টেম্বর’ বাক্য-বন্ধটির সম্ভাবনা নিয়ে একেবারে মশগুল হয়ে থেকেছি। মনে হয়েছে আহা এর উচ্চারণের মধ্যেই রয়েছে এক অপূর্ব রোম্যান্টিকতা যাকে শুধু দুজন মানুষের প্রেম-কামনার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা যায় না। সেপ্টেম্বরের মধ্যে রয়েছে এক সমবেত  আহ্বান, একটা মুক্তির মন্ত্র। তাই   চাইনি  পরিচিত  ধাঁচার দৃশ্যায়িত রোম্যান্স এর মধ্যে  আটকে না পড়ে সেপ্টেম্বর আসার মুগ্ধতা।  না-দেখা তাই চোখ বুজলেই ভেসে উঠেছে ঈষৎ ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ এক প্রান্তর, সরষে-সুরগুজার হলুদে মিশেছে ক্ষেত আর বনভূমির সবুজ, সেই গড়ানে জমির শেষে, পাহাড়ের ধূসরের সংকেত পেরিয়ে এক আশ্চর্য  নীলের বিস্তার, উজ্জ্বল কিন্তু  কোমল, আর্দ্র। সেই শেষ দুপুরের মিঠে-কড়া রোদে ছুটে যাচ্ছে একগুচ্ছ অল্পবয়েসী। তাদের মুখ দেখতে না পাওয়া গেলেও শরীরের মধ্যে রয়েছে মুক্তির ভাষা।

বন্ধু শুনে বললেন, ‘ও আপনি তো ‘সাউণ্ড অফ মিউজিক’ এর কথা ভেবেছেন!’ বিলকুল তাই।  আমার অবচেতনে ‘কাম্‌ সেপ্টেম্বর’ আসলে আরেকটি বিখ্যাত হলিউড মিউজিকালের স্মৃতি বহন করে। সেখানেও রোম্যান্স নেই তা নয়, কিন্তু তাকে ছাপিয়ে রয়েছে শাসনের বিরুদ্ধে সুর। সেই সুরের স্রষ্টা  উচ্ছল, প্রাণ শক্তিতে ভরপুর, গান-পাগলা মারিয়া যে জানে শুধু নিয়মের নিগড়ে আটকে,  চাবুক চালিয়ে কখনো বশে আনা যায় না মানুষকে, বিশেষত কচিকাঁচাদের।  তাই ক্যাপ্টেন ভন ট্র্যাপের সাতটি মা-হারা সন্তানের গভর্নেস হয়ে আসা মারিয়া এক লহমায় বুঝে যায় এই ’পাজি’ বাচ্চাদের  ইউনিফর্ম পরিয়ে, হুইসিলের ডিসিপ্লিনে কুচকাওয়াজ করিয়ে একেবারে বন্দী করে ফেলেছেন তাদের উজবুক পিতা। অতএব শুরু হয় মারিয়ার বাঁধ ভাঙ্গার কাজ, ভালোবাসার  স্বরে-সুরে। এবং শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ত নাৎসী দের বশ্যতা স্বীকার না করে, তাদের চোখের সামনে দিয়েই সুরের মোহজাল বিস্তার করে, রাতের অন্ধকারে মারিয়া ও ক্যাপ্টেন তাদের এই কচিকাঁচা দের নিয়ে পাড়ি দেন।  শেষ দৃশ্যে দেখা যায় তারা আদিগন্ত বিস্তৃত, ভোরের আলোয়  উদ্ভাসিত, এক চরাচরে হেঁটে চলেছে। সামনে মুক্তির আশ্বাস।

 

 

শরৎকাল এলেই ‘কাম্‌ সেপ্টেম্বর’ কথাটা আমার মাথায় পাক খেতে থাকে। মনে পড়ে যায়  ১৯৮০র মাঝামাঝি র কথা।  সম্ভবত জুলাই এর শেষ বা আগস্ট এর গোড়ায় মিশনারী স্কুলের গন্ডী পেরিয়ে, স্কার্ট- টপ, চুলে হর্স্ টেল, হাঁটু পর্যন্ত মোজা বালিকা-বিদ্যালয়ের আঠারো বছরের ‘কন্যা’ হয়েই, একেবারে কম্পিত হৃদয়ে প্রবেশ করেছিলাম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে। ছাত্রী স্বীকৃতি পেয়ে। এই খানেই সেই ভ্যেবলে যাওয়া কন্যাটি সাবালিকা হয়েছিল, নানা অর্থেই। এক্ মাসের বেশী লেগেছিল সেই তাক্‌ লাগা অবস্থা থেকে ধাতস্থ হয়ে এই ইউনিভার্সিটিকে চিনে নিতে। সেই কাম্ সেপ্টেম্বর। ততদিনে বুঝতে শিখেছি এই চত্বরে ঢুকে প্রথমেই ঢুঁ মারতে হয় লাইব্রেরীর উল্টোদিকে ক্যান্টীনে, স্যান্ডুউইচ বা সিঙাড়া আর চাএর সন্ধানে। তার পর শ্যাওলা ধরা ঝিলের ধারে ঘসে বসে অন্তহীন আড্ডা;  ধীরে ধীরে ঘুরে যাচ্ছে  উইণ্ডমিল, মাঝে মাঝেই ভেসে আসছে ‘জবাব চাই জবাব দাও’ এর স্লোগান, ট্রেনের  পাশে বসে কীটসের চিঠি,বা কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো; খাতায়-কলমে এলিয়ট বা সিল্ভিয়া প্ল্যাথের প্রিয় কবিতার অনুবাদ। তারপর ইচ্ছে হলে ধীরে সুস্থে ফিরে আসা ডিপার্রমেন্টে।  রাজনৈতিক  পোস্টারে ছয়লাপ দেওয়াল এর দিকে তাকাতে তাকাতে ক্লাস্ রুম। বিখ্যাত অধ্যাপকদের লেকচার শুনে মন্ত্রমুগ্ধতা কাটিয়েই দুদ্দাড় নেমে সেই কিংবদন্তী লবি। ধুলো মাখা তিন ধাপ সিঁড়ি যেখানেই আসল শিক্ষা লাভ করতাম আমরা যার মূল তত্ত্ব টি ছিলো বন্ধুত্ব । কাম সেপ্টেম্বর বাক্যটির মধ্যে জড়িয়ে রয়েছে জীবনের সেই প্রথম একেবারে অন্য স্বাদের সখ্যের, সেই জীবন-শৈলীর পাঠের স্মৃতি।

দুজনের গভীর বন্ধুত্ব নয় শুধু, একটা সমবেত সম্পর্কের, সাহচর্যের স্বাদে ভরে থাকতো ক্যাম্পাসের কিছু কিছু স্থান। সেখানে তৈরী হতো নাটকের স্ক্রীপ্ট, কুশীলব নির্বাচন, হতো গিটার বাজিয়ে গান, একেবারে না -দেখা রাশিয়ান সিনেমার সমালোচনা এবং অবশ্যাই নির্ভেজাল ক্যাওড়ামি। খিস্তি- খেউড়ের চলন ছিলো কিনা স্মরণ নেই কিন্তু ইয়ার-দোস্তির সহজ ভাষা সবসময় নিশচই শালীনতার ধার ধারতো  না। বাড়াবাড়ি হয়ে গেলে মেয়েদের দলের মুখফোঁড়রাই উঠে গিয়ে অভব্য ছোকরা টিকে দু কথা শুনিয়ে, প্রয়োজনে কান মুলে চলে আসতো। তারা অনেকেই তখন প্রাতিষ্ঠানিক না হলেও নারী-বাদের পাঠ পড়ছে, নিজেদের তাগিদে। সেই ফেমিনিস্ট দের নিয়ে  হাসা-হাসির সংগে মিশে থাকতো কিছু সম্ভ্রমও।  পুরুষ সহপাঠিদের মধ্যেও, সেই কারণেই কী তাদের মধ্যে যৌন আগ্রাসী ভাব তৈরী  হতো না?  অন্তত এইটা মনে পড়ে না যে ক্যাম্পাসে সতীর্থদের মধ্যে ‘শা

সন’ হিসেবে যৌন হেনস্থার প্রচলন ছিলো, অথবা রেপ –কালচার।

সেখানে যারা প্রায় নিয়মিত আসতেন তারা সবাই কী যদুবংশীয় অর্থৎ যাদবপুরের নাম-লেখানো পড়ুয়া? জানতে চায়নি কেউ; আমরা ক্রমশ চিনতে পারতাম বিখ্যাত প্রাক্তনীদের,  বাকিরা হয়তো অন্য কলেজ ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রী। কিন্তু তারা কী বহিরাগত ছিলেন? ওই চত্বরে এমন আশ্চর্য কথা কারুর মাথায় আসে নি।  যাদের অনেক কে ঘিরে জীবনের পাঠ, খুঁজে নেওয়া  জীবনের মানে, তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরের মানুষ কী করে হতে পারেন? নাঃ আমাদের সেই আলোকের ঝরণাধারার দিন গুলোতে মানুষকে  শনাক্ত ও চিহ্নিত করে এমন তকমা এঁটে দেওয়ার চেষ্টা করে নি কেউ।

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ র পর ‘কাম সেপ্টম্বর’ এখন অন্য মানে বহন করে। ঘটনার পরম্পরা প্রায় সকলেরই জানা:  উৎসবের –মেজাজের মধ্যে পড়ুয়ারাই আগ্রাসী হয়ে উঠে যৌন নিপীড়ন করে এক সহপাঠিনী কে। এই গুরুতর অপরাধের  তদন্ত ও তার প্রতিকার চেয়ে আন্দোলনে নামে ছাত্র-ছাত্রীরা। কতৃপক্ষের কাছে গাফিলতির জবাবাদিহি চাওয়ার জন্য ঘেরাও। বিশ্ববিদ্যালরের ভালোমন্দের দায়িত্ব যাঁর উপর ন্যস্ত, যিনি এই পড়ুয়াদের অভিভাবক তূল্য সেই উপাচার্যের কাছেই। এটাও, অন্তত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে, একেবারে স্বীকৃত পন্থা। তবুও দুর্ভাগ্যের বিষয়   পড়ুয়াদের প্রতিবাদের অবস্থান ধর্মঘটে, তাদের স্লোগানে ভীত, সন্ত্রস্ত বোধ করে উপাচার্য সাহায্য চান, পুলিশি উদ্ধারের। তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, সরকারি সেপাই-সান্ত্রী সারাদিনের বিক্ষোভকারী ক্লান্ত ছাত্র-ছাত্রীদের উপর অতর্কিতে হামলা করে । সেই পুলিশী পিটুনির ছবি অনেকেই টেলিভিশনে দেখেছেন, যা দেখেন নি, এবং যা ছাত্রী দের বয়ানে উঠে এসেছে, যে কী ভাবে তাদের যৌন নিগ্রহ হয়েছে; কিল, চড়, থাপ্পড়ের সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে জামা, শরীর মাড়িয়ে চলে গেছে  বুট।  এই ঘটনার পরদিন তার প্রতিবাদে রাস্তায় নামা ছাড়া কী বা করতে পারতেন  বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা? বা এই কাণ্ডের ভয়াবহতায় শিউরে উঠেছেন, প্রাক্তনী, বা সাধারণ নাগরিকরা ? এক দিন নয়, তার পরেও মহানগরের রাস্তায় তুমুল বৃষ্টির দুপুরে হাজার হাজার ছাতার সমাবেশে হয়েছিল এক মহামিছিল যে  দৃশ্য শুধু কলকাতা নয় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দৌলতে তাবৎ দুনিয়া দেখেছে। এবং শুধু কলকাতায় নয় দিল্লী, ব্যাঙ্গালোর সহ অনেক শহরেই পড়ুয়ারা প্রচিবাদে, সহ্মর্মিতায় মিছিল করেছে। ধিক্কার জানিয়েছে। মুখে মুখে ফিরেছে যুগান্তকারী ‘হোক কলরব’ ।  এই স্বতস্ফূর্ত মিছিল, প্রতিবাদ ইন্তিফাদা কিনা জানা নেই,  জানা নেই এক সময়ের বসন্তের বজ্রনির্ঘোষের তুলনা করা চলে কিনা। বস্তুত এখন মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া সবই এই বিষয় নিয়েই  সরগরম।  পক্ষ-বিপক্ষের চিন্তক শিক্ষাবিদরা কলম ধরেছেন, ঘেরাও এর আইন-বেআইন, ক্যাম্পাসে রাজনীতি, কতৃপক্ষের এবং পড়ুয়াদের ভূমিকা কী  এই সমস্ত কিছু নিয়ে চলছে দীর্ঘ আলোচনা।  তার মধ্যে অল্পবয়েসীরা খুব বেশী তর্ক করছে না। তারা নিজেদের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে পোস্ট করছে  মারকাটারি এক-লাইনের বক্তব্য, ছড়া, গানের প্যারডি।  হি-হি হাসির হ্লাদিনী শক্তিতে ভরপুর তারা। তারা নতুন যৌবনের দূত। তাদের মুখ বেঁকিয়ে ধুৎ বলার অধিকার নেই কারুর। এই বছরে সেপ্টেম্বরের স্যালুট তাদের জন্য।

 

About the author:
Has 212 Articles

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Top