Tinpahar
No Comments 39 Views

শ্রীমতী প্রমিতা মল্লিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকার

2011-Pramita_Mallick_126153634

শাম্ভবীঃ আপনি কি বরাবরই প্রফেশনালি গানবাজনা করতে চেয়েছিলেন?

প্রমিতাদিঃ না। তোমরা জানো যে আমি ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ করেছি। এমনকি, শান্তিনিকেতনে আমার স্কুলেও ইলেক্‌টিভ মিউসিক নেবার একটা স্কোপ ছিল, কিন্তু আমি তা নিইনি। আসলে এখন আমি যখন পিছনে তাকিয়ে দেখি, যে কেউই ভাবতে পারে যে আমার হয়ত গানে ইন্টারেস্ট ছিলনা। সেটা আবার ঠিক নয়। আমার গানে ইন্টারেস্ট সারা জীবন ছিল, একেবারে ছোট থেকে গান করি। কিন্তু, ওটা এমনই একটা ‘পার্ট অ্যান্ড পার্সেল অফ লাইফ’ হয়ে গিয়েছিল, যে ওটার জন্য যে আলাদা করে কিছু করতে হবে … তার থেকে হিস্ট্রি পড়ি, সিভিক্স – ইকনমিক্স পড়ি, এটা আমার বেশি মনে হয়েছিল। সেইজন্যেই বোধহয় তখন ইলেক্‌টিভ মিউসিক নিইনি। আর কলেজে উঠে – আসলে আমাদের সময়ে ‘শুধুই সঙ্গীত-ভবনে পড়ব’, এই ব্যাপারটা ছিলনা। তাই যখন ইংলিশ নিয়ে শিক্ষাভবনে ভর্তি হলাম – আমাদের সময় আন্ডারগ্র্যাজুয়েশনটা শিক্ষাভবনে হত – তার সঙ্গে সঙ্গীত-ভবনে সার্টিফিকেট কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। তারপরে তো ওখানে আমি শেষ করতে পারিনি, মানে পারিবারিক কারণে আমরা সবাই চলে আসি কলকাতায়। সেখানে এসে ক্যালকাটা ইয়ুনিভার্সিটি থেকে বি.এ করেছি আর এম.এ করেছি যাদবপুর থেকে। তবে গান কিন্তু ছোট থেকেই সমানে শিখেছি। অল ইন্ডিয়া রেডিওতে অডিশান দিয়েছিলাম নাইন্টিন সেভেন্টি ওয়ানে, সেভেন্টি টু থেকে আমি রেডিওতে গান করতে শুরু করি। আর সেভেন্টি ফাইভ থেকে দূরদর্শনে। কলকাতায় আসার পর বিক্ষিপ্তভাবে সুচিত্রা মিত্র, সুভাষ চৌধুরী, এঁদের কাছে তো গেছিই, আর টানা শিখেছি সুবিনয় রায়ের কাছে। তাছাড়া আমার পুরাতনী বাংলা গানেরও সখ ছিল, তার জন্য চন্ডীদাস মাল মশাইয়ের কাছে ক্লাস করতাম। আর ক্লাসিকালটা বাড়িতে করতাম।

শাম্ভবীঃ শান্তিনিকেতনে নীলিমা সেন ছিলেন, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন। এঁদের কাছেও আপনি গান শিখেছেন। এঁদের গান শেখানোর পদ্ধতিটা কেমন ছিল? ফর্মাল না ইন্‌ফর্মাল?

প্রমিতাদিঃ একদম ইন্‌ফর্মাল। আমার তো একেবারেই মনে পড়েনা যে কেউ কোনোদিন স্বরলিপি খুলে গান শিখিয়েছেন, সেটা আমি একদমই দেখিনি কখনও। আমি বাচ্চুমাসি, মোহরমাসি ছাড়াও মঞ্জুদি, সীতাংশুদা, এঁদের কাছেও গান শিখেছি – বা কুট্টুদি, আমাদের স্কুলে ছিলেন – কিন্তু সবটাই গলা থেকে গলায় গান তুলে নেওয়া। তাই আমরা স্বরলিপিটা নিজেরা পরে পড়তে শিখেছি। আমাদের সময় অন্ততঃ ওটা চালু ছিলনা একেবারেই।

শাম্ভবীঃ আপনি ইংরেজি সাহিত্য পড়েছেন। আপনার কি মনে হয় যে এই সাহিত্য পড়ার ট্রেনিংটা আপনাকে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে বুঝতে সাহায্য করেছে?

প্রমিতাদিঃ অবশ্যই। রবীন্দ্রনাথের গান গাইতে গেলে – সব গান বলছিনা – কিন্তু অনেক গান ভাল করে হৃদয়ঙ্গম করতে গেলে মিনিমাম একটা ইন্টেলেক্‌চুয়াল ক্ষমতা থাকা দরকার। নাহলে গানের ঠিক ভিতরে পৌঁছানো যায় বলে আমি মনে করিনা। আবার কিছু গান আছে যেগুলো ছোট বয়সে একরকম মানে আমাদের মনে হয়, তার উপরের মানেটা বেশি করে দেখি, তারপর একটা বয়েসের পরে যেন মনে হয় যে গানটার ভিতর অবধি দেখতে পাচ্ছি। দেখাটা কোনো সময়ই হয়তো সম্পূর্ণ হয়না, কিন্তু অন্ততঃ ছোটবেলায়, পঁচিশ-তিরিশ বছর বয়সে যা হত, ষাট পেরিয়ে গিয়ে মনে হয় যে জিনিসটা আর একটু পরিষ্কার হয়েছে আমার কাছে।

শাম্ভবীঃ গানের সূত্রে অনেক জায়গায় আপনাকে যেতে হয়েছে, ভারতের বাইরেও। অন্যান্য দেশের অডিয়েন্স সম্পর্কে আপনার কী ধারণা তৈরি হয়েছে?

প্রমিতাদিঃ আমি ইংল্যান্ডে আমেরিকাতে বাঙালিদের জন্য অনুষ্ঠান করেছি, আবার অবাঙালিদের জন্যেও করেছি, যেমন ওয়ার্কশপ ইত্যাদি করিয়েছি। ইংল্যান্ডেও, রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্যের উপর – শ্যামার উপর বিশেষতঃ – নিয়েছিলাম, একবার। কিন্তু ইয়ুরোপের বিভিন্ন জায়গায়, ধরো, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, এস্টোনিয়া, ইটালী, — আরও দু-একটা জায়গার নাম ভুলে যাচ্ছি, প্রায় পুরোটাই আমার ঘোরা — এইসব জায়গায় কিন্তু আমি নন্‌-বেঙ্গলীদের জন্য প্রচুর কাজ করেছি। নন্‌-বেঙ্গলী মানে নন্‌-ইন্ডিয়ানদের সঙ্গে নরওয়েতে কাজ করেছি অনেক। জার্মানীতে, এবং ফ্রান্সে তো অবশ্যই, কয়েকজন আমাকে এসে বলেছিলেন যে ওঁরা অনেক বাদ্যানুসঙ্গ পছন্দ করেননা। ওঁরা পিওর ভয়েসটাই পছন্দ করেন। সুইট্‌জারল্যান্ডে বার তিনেক আমি গান গেয়েছি। একবার জুরিখে রিট্‌বার্গ মিউজিয়ামে গান করেছি, সম্ভবতঃ সেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত এখনও পর্যন্ত আমিই একমাত্র গেয়েছি। এখন কি-বোর্ড, হেনা-তেনা অনেক কিছু সঙ্গে যায়, তখন কিছুই প্রায় যেতনা, একটা তবলা, হারমোনিয়াম, তানপুরা, যা পেতাম, পেতাম – ওঁরা কিন্তু এই বাহুল্যবর্জিত গান খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করতেন। আমেরিকার ইয়ুনিভার্সিটি অফ মিশিগান-এ সবাই প্রায় আমেরিকান ছিলেন, এবং আমি দেখলাম ওঁরা গান সম্বন্ধে বেশ সুন্দর সুন্দর প্রশ্ন করছিলেন। যেমন আমরা কীভাবে যন্ত্র ব্যবহার করি, গলাটা কিভাবে ব্যবহার করি, ইত্যাদি। অস্ট্রেলিয়াতে একটা বিশাল বড় ফোক ফেস্টিভাল হয়, সেখানে একবার রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইবার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে ধরো দশ হাজার স্রোতার মধ্যে হয়তো কুড়িজন বাঙালি বা ইন্ডিয়ান, আর সবাই অস্ট্রেলিয়ান। সেখানে তাঁদের ফোক এলিমেন্ট্‌সগুলো বুঝিয়ে গান করেছি, তাতে কিন্তু কোনো অসুবিধে হয়নি। সুতরাং আমার মনে হয় যে যদি হ্যান্ডফুলও হয় … মানে ধরো সান ফ্রান্সিস্কোতে পুজোয় গান করছি, সেখানে আঠেরোশো লোক, কি কোথাও আড়াই হাজার লোক – কিন্তু এইসব জায়গায়, যেখানে নন্‌-ইন্ডিয়ানরা থাকেন, হয়তো তাঁদের সংখ্যা খুব বেশি নয়, কিন্তু তাঁদের কাছে গানটা করতে একটা অন্যরকম আনন্দ লাগে।

শাম্ভবীঃ রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়িকা হিসেবেই আপনার পরিচয়। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়া অন্য জনর-এর গান কি আপনাকে অ্যাপীল করে?

প্রমিতাদিঃ ফোক মিউসিক আমার পছন্দের। আসলে ফোক মিউসিক আমাদের মাটির বলে হয়তো, ওটা আমাদের রক্ততে pull করে। আমি খুব কম মানুষকে বলতে শুনেছি যে ফোক ভাল লাগে না। তাই জন্যেই লোকসঙ্গীত আমার ভীষণ প্রিয়।

শাম্ভবীঃ সেটা কি যে কোনো দেশেরই?

প্রমিতাদিঃ হ্যাঁ। একটা সময়ে একটা অনুষ্ঠান করতাম, অনেকদিন আগে, নাইন্টিন সেভেন্টিজ-এ। নির্মলেন্দু চৌধুরীর ছেলে উৎপল চৌধুরী আমার খুব ভাল বন্ধু ছিল – অকালে প্রয়াণ হয়েছে ওর – ও আর আমি এরকম অনেকগুলো প্রোগ্রাম করেছি, যে, ধরো কোনও বুল্‌গেরিয়ান ফোক গানের সঙ্গে কোনো বাংলা ফোক গানের মিল, এরকমভাবে – যে ফোক মিউসিকের কোথাও কোথাও রুট্‌গুলো এক। … আমাকে ফোক মিউসিকটা খুব টানে।

শাম্ভবীঃ আজকাল টি.ভিতে সব সিরিয়ালে প্রচুর রবীন্দ্রসঙ্গীত ব্যবহার করা হচ্ছে। আপনি কি এটাকে সমর্থন করেন, নাকি মনে হয় যে এতে কোথাও রবীন্দ্রসঙ্গীতের মানটা ক্ষুন্ন হচ্ছে?

প্রমিতাদিঃ এটার দুটো দিকই আছে। একটা হতে পারে যে ‘আমি চিনি গো চিনি’ বা ‘পুরানো সেই দিনের কথা’ ছাড়া আর পাঁচটা রবীন্দ্রসঙ্গীত মানুষের কানে ঢুকছে। এটা হল ভাল দিক। খারাপ দিক হল যে অনেক সময়ই – আমি খুব কম টি ভি দেখি, তাও অনেক সময়ই কানে আসে – অত্যন্ত অযত্নের সঙ্গে গানগুলো গাওয়া হয়। যাঁরা গাইছেন, তাঁদের দোষ নয়, শেখানোটা ঠিক হয়নি। তাঁরা যেভাবে গানটা করছেন, সেটা ঠিক রবীন্দ্রসঙ্গীত হচ্ছেনা। তাতে আমার আপত্তি আছে।

শাম্ভবীঃ রবীন্দ্রসঙ্গীতের গায়কী নিয়ে নানারকম ডিবেট্‌স হয়েছে। এমনকী দেবব্রত বিশ্বাসের মত একজন এস্ট্যাবলিশ্‌ড শিল্পীরও একটা সময় বিশ্বভারতীর সঙ্গে সমস্যা হয়েছিল…

প্রমিতাদিঃ আসলে এটাকে নিয়ে একটু বেশি বাড়াবাড়ি করা হয়। কেননা ওঁকে যে আটকানো হয়েছিল দু-একটা ক্ষেত্রে সেখানে, আমি যতদূর শুনেছি সঙ্গীত সমিতির মেম্বারদের কাছে, একবার অন্তরার থেকে গান ধরা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল, আরেকবার যন্ত্রানুসঙ্গের ব্যবহার নিয়ে। কিন্তু দেখো, সবকটা গানই যদি বিশ্বভারতী আটকে দিত, তাহলে আমরা ওঁর গান শুনতাম কি করে, এতগুলো রেকর্ড কি করে বাজারে অ্যাভেলেব্‌ল হত? সেইজন্যে আমার ধারণা যে এটা নিয়ে একটু বেশি বাড়িয়ে বলা হয়, আর দেবব্রত বিশ্বাসের গায়কী তো যেভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইবার কথা সেভাবেই গান। বেসিকটা কী? দেখো, আমি মনে করি যে রবীন্দ্রনাথের গান কথা বলার মত করে হবে, একটা প্রপোরশনেট অংশ ড্রামা থাকবে, উচ্চারণ স্পষ্ট হবে, সুরগুলো পরিষ্কার লাগবে, খোলা গলায় গান হবে। এইভাবে রবীন্দ্রনাথও গাইতেন, আর এভাবেই আমাদের সবার গাওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি। দাঁত চিপে চিপে বা মুখ বুজে বুজে গান গাওয়াকে আমি সমর্থন করিনা।

শাম্ভবীঃ ঠিকই, কিন্তু যেমন কেউ কেউ বলে থাকেন যে রবীন্দ্রসঙ্গীত একটা বিশেষ ভঙ্গিতেই গাওয়া উচিৎ, তার বাইরে গেলেই ব্যাপারটা কমার্শিয়ালাইজ্‌ড হয়ে যায় …

প্রমিতাদিঃ সেটা আমি খুব একটা মনে করিনা। আমার মনে হয় যে গানটাকে ঠিক ভাবে বুঝে সেটাকে যদি – তবে হ্যাঁ ‘crooning’ জিনিসটা রবীন্দ্রসঙ্গীতে চলেনা। এটা খোলা গলার গান, সেটা রবীন্দ্রনাথও বারবার বলে গেছেন। তার মধ্যে ভাব থাকবে, রস থাকবে, মীড় থাকবে, এই কতগুলো জিনিস। আর গায়কী তো একটা আছেই। যদি তুমি রবীন্দ্রনাথের নিজের গান, দীনেন্দ্রনাথের গান, শান্তিদেব ঘোষের গান, শৈলজারঞ্জনের গান, তারপর রাজেশ্বরী দেবী, তারপর কণিকা-সুচিত্রার গান শোনো, তাহলেই তো বুঝতে পারবে কীভাবে গাওয়া যেতে পারে। সেটাই রাবিন্দ্রিক গায়কী।

শাম্ভবীঃ ইদানীং আরও একটা জিনিস উঠে এসেছে যাকে ফিউশান মিউসিক বলা হচ্ছে। যেমন কয়েকটা সিনেমাতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের একটা লাইন ব্যবহার করে বাকিটা একটা সম্পূর্ণ অন্য গান তৈরি হল, বা কোনো একটা লাইন refrain হিসেবে ব্যবহার করা হল। এই ধরণের ফিউশান মিউসিক কি আপনি পছন্দ করেন?

প্রমিতাদিঃ আমি যে কোনো জিনিসকেই  oppose করি তা নয়। আমার প্রশ্ন যে তার মিউসিক্যালিটিটা রয়েছে কিনা। সত্যি কথা বলতে কি, আমি এই ধরণের গানগুলো খুব বেশি শুনিনি। কিন্তু যেখানে ফিউশানটা হচ্ছে, সেটা যদি সত্যিকার ফিউশান হয়ে থাকে, তাহলে কিন্তু সেটা কানে লাগবে না। না হলে কিন্তু তোমাকে গানটা একটা sore-এর মত কষ্ট দেবে। সেটা তো শুনতে অবশ্যই ভাল লাগবে না। কিন্তু আবার সুন্দরভাবে মেলবন্ধন হলে খারাপও লাগবে না। ধরো কথার কথা বলছি, সচিনদেব বর্মণ যে ‘যদি তারে নাই চিনি গো সে কি’ কে ভেঙে নিয়ে ‘তেরে মেরে মিলন কী ইয়ে র‍্যায়না’ করলেন, তাতে করে কিন্তু গানটাকে আমার কখনোই ear-sore বলে মনে হয়নি। সেটা দিব্যি ভাল লেগেছিল। কিন্তু তুমি যেটা বলছ, যে একটা লাইনকে নিয়ে সেটার উপরে বেস করে একটা অন্য গান, এগুলো আমি খুব একটা শুনিনি। একটা বোধহয় শুনেছিলাম, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলতে হয়’ – এরকম কিছু একটা, সেটা আমার নিজের খুব একটা ভাল লাগেনি। অথবা, ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’তে যে ‘উলাল্লা-উলাল্লা’ বসানো হয়েছিল, ওটা আমার মনে হয়েছিল totally superfluous। ওটা গানটাকে এতটুকুও মর্যাদা দেয়নি।

শাম্ভবীঃ অনেকে বলেন যে রবীন্দ্রসঙ্গীত নাকি এখন নতুন প্রজন্মকে আর ততটা অ্যাপীল করছেনা, এবং কিছুদিন পরে নাকি রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়া নাকি একদম কমে যাবে। আপনার কি মত?

প্রমিতাদিঃ আমার তো এখনও পর্যন্ত সেরকম কিছুই মনে হচ্ছেনা। কারণ, ভর্তি হওয়ার যে জায়গা গুলো, ইয়ুনিভার্সিটি গুলো যেমন, তাতে ভর্তি তো কিছু কম দেখছিনা। আর রবীন্দ্রসঙ্গীতের সিডি বিক্রির হিসেবটা যদি তুমি দেখো, তাহলে দেখবে, যে এখনও পর্যন্ত বাংলা গানের মধ্যে রবীন্দ্রসঙ্গীতের বিক্রি সর্বাধিক হয়। আজকের প্রজন্ম হয়তো এখন শুনছেনা, কিন্তু তারা যখন চাকরী-বাকরী করবে, আরেকটু বড় হবে, তখন দেখবে, তারাই আবার সিডি কিনছে। এটাই এতদিন ধরে হয়ে আসছে।

শাম্ভবীঃ সব শেষে, এখনকার নবীন শিল্পীদের কী পরামর্শ দেবেন?

প্রমিতাদিঃ ওই প্রথমেই যেটা বললাম। গানটাকে ভাল করে পড়ো, গানটাকে বোঝো। তারপরে, যতটা সম্ভব গানটার গভীরে ঢুকে তাকে নিজের মত করে ইন্টারপ্রেট করো। সবার গানই যদি একই রকম হয় তাহলে তো জিনিসটা বোরিং হয়ে যাবে। কাজেই যে যার নিজের মত করে গাইবে। তবে গানে যেন অনুশীলন থাকে, যেন যত্ন থাকে। সুর, ভাব, লয়, তাল, সবকিছু যথাযথ না হলে কিন্তু গানটা গান হয়ে ওঠে না। সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে যে কোনো স্রোতা, যাঁরা খুব একটা রাবিন্দ্রিক স্রোতা নন, তাঁরাও গানটাকে পছন্দ করবেন।

About the author:
Has 213 Articles

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Top